মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং ভুল তথ্য প্রচারের অভিযোগে তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে জেলা শহরের ২৫০ শয্যার মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনকালে এ নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমান।
পরিদর্শনের সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সেবা কার্যক্রম ও সরঞ্জামের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জানা যায়, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীরকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার এবং স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তিনি দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এর প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবং তার অপসারণের দাবি জানায়।
সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।