গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে গিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। সেই ঘটনার পর থেকে একের পর এক ফাঁস হচ্ছে তার ফোনালাপ। কখনো সাবেক মন্ত্রী, কখনো দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার গোপন কথোপকথন এখন জনসম্মুখে আসছে।
সর্বশেষ সামনে এসেছে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে শেখ হাসিনার অডিও রেকর্ড। সোমবার (১৮ আগস্ট) প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের এই ফোনালাপ প্রকাশ করেছেন।
এর আগেই রোববার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানেও তাকে ‘জামায়াত-শিবিরের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার’ নির্দেশ দিতে শোনা যায়।
কিন্তু নানকের সঙ্গে ফাঁস হওয়া ফোনালাপে শেখ হাসিনা সরাসরি জাতীয় পার্টিকে ‘জিন্দা লাশ’ বলে অবজ্ঞা করেন। তার ভাষায়, “দরকার নাই আর ওই পার্টির। ওদের নিয়ে আর কী করব? জিন্দা লাশ। আমি এবার একটারেও ছাড়ব না।”
ফোনালাপের সময় শেখ হাসিনা নানককে স্পষ্ট করে বলেন,
“তুমি আমাকে যা বলবা সত্যি কথা বলবা।” জবাবে নানক বলেন, “জি বলব।”
এরপর হাসিনা জানতে চান মোহাম্মদপুরের বিহারী পট্টির লোকদের ভূমিকা কী।
নানক জবাব দেন,
“ওদের ভূমিকা ভালো, আপা। শুধু এখানে সেন্টু কমিশনার আছে একটা, কালপ্রিট, জাতীয় পার্টির। ওর সঙ্গে কয়েকটা ছেলে আছে… কিন্তু আপা, সেন্টুকে ধরলে আবার জাতীয় পার্টি চ্যাতবে।”
এ পর্যায়ে শেখ হাসিনা তাকে ধমক দিয়ে বলেন,
“চুপ করো, জাতীয় পার্টি চ্যাতলে আমাদের কী আসে যায়? জাতীয় পার্টি আর কত? দরকার নাই আর ওই পার্টির। ওদের নিয়ে আর কী করব? জিন্দা লাশ।” নানক তখন সায় দিয়ে বলেন, “একেবারে ছাইকা ফেলতে হবে, আপা।”
অডিওটির সময়কাল ছিল গত বছরের জুলাই, যখন দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সেই সময়কার এই ফোনালাপ আবারও প্রমাণ করছে, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য কোনো কৌশল অবলম্বন না করে সরাসরি দমন-পীড়নকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
এর আগে শেখ ফজলে নূর তাপস ও হাসানুল হক ইনুসহ আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন ফাঁস হয়। ধারাবাহিক এসব অডিওতে প্রকাশ পাচ্ছে, ক্ষমতায় থাকার জন্য শেখ হাসিনা কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র নয়, দলের ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও ভয়ভীতি আর কঠোর নির্দেশে নিয়ন্ত্রণ করেছেন।