আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অন্য কোনও প্রতীক নয়, ধানের শীষই হবে জনগণের একমাত্র ভরসা—এমনই প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাবে জনগণের সরকার, অর্থাৎ ধানের শীষের হাতে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা চত্বরে আয়োজিত বিএনপির এক বিজয় সমাবেশে শুক্রবার বিকেলে এসব কথা বলেন তিনি। দুদুর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, ছিল হুঁশিয়ারি, ছিল জনগণের দাবির প্রতিধ্বনি।
তিনি বলেন,
“চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু আর যারা দেশের ক্ষতি করেছে—তাদের কোনও স্থান বিএনপিতে নেই। যদি কেউ এমন অপকর্মে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। আমরা কারও অপকর্মের দায় নিতে রাজি না।”
বিএনপি কিভাবে লড়াই করে টিকে আছে, সে কথা টেনে তিনি বলেন,
“তারেক রহমান ১৬ বছর ধরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অথচ শেখ হাসিনা ছিলেন সেই মুখ, যিনি বলতেন ‘মুজিব কন্যা পালায় না’। এখন সেই তিনিই জনগণের রায় থেকে পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, এমন দেশে, যারা সীমান্তে বাংলাদেশিদের রক্ত ঝরিয়েছে।”
দুদু আরও বলেন,
“এই দেশ চলবে সেই সরকারের অধীনে, যারা মানবতা প্রতিষ্ঠা করবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম দেবে, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি পৌঁছাবে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবকের জন্য চাকরি নিশ্চিত করবে।”
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যে উচ্চাশা বিএনপি পোষণ করছে, তার প্রতিচ্ছবি মিলেছে শামসুজ্জামান দুদুর ভাষণে। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবার বিএনপি শুধু প্রতীক নিয়ে নয়, নীতির ভিত্তিতেই মাঠে নামছে। শেখ হাসিনার ‘অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক’ পলায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজনৈতিক পালাবদলের আভাসও দিয়ে দিয়েছেন।
জনগণের শক্তিকে সম্বল করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনৈতিক বলয় এবার সরাসরি ক্ষমতার প্রশ্নে মাঠে, আর সে কথাই যেন ঘোষণা করে দিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা।