আমি যে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম, আজ দেখতে পাচ্ছি সেই দল তার গণতান্ত্রিক ধারা থেকে সরে গেছে। হয়তো তারা ভুলে গেছে ১৪০০ শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এ দেশে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। এই ছাত্রজনতাকে আর দমানো যাবে না। এখনো সময় আছে, আমি বলবো আপনারা ফিরে আসুন গণতান্ত্রিক ধারায়।
এনসিপিতে সদ্য যোগ দেওয়া এ নেতা বলেন, ওসমান হাদি ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এখনো দেখতে পেলাম না এই সরকার সেই হত্যাকারীদের গ্রেফতার করেছে। পূর্বের সরকারও গ্রেফতার করেনি। কেন করেনি, কারা এর সঙ্গে জড়িত- সে প্রশ্ন আজও রয়ে গেছে। আমি আবার দেখতে পাচ্ছি, পূর্বের সেই অশুভ প্রভাব ফিরে আসছে। আমাদেরকে আবার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে।
তিনি বলেন, আমি সব শাসনামলেই কারাগারে ছিলাম- বিএনপির সময়, আওয়ামী লীগের সময়- সব আমলেই। আমি সব শাসনামলে স্বৈরশাসন দেখেছি, সহ্য করেছি। কিন্তু কোনো বিদেশি শক্তি যদি বাংলাদেশের মাটিতে শাসন করতে চায়, সেই শাসন এ দেশের জনগণ কোনোদিন মেনে নেবে না।
ইসহাক সরকার বলেন, আমার পরিবারের ওপর অত্যাচার হয়েছে, জুলুম করা হয়েছে। তবুও আমার কারও প্রতি ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই। আমি এই এনসিপির মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি- এই দলের মাধ্যমেই এ দেশের জনগণের নিরাপত্তা, অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, আজ যদি ফ্যাসিবাদ টিকে থাকতো, যদি শেখ হাসিনা পালিয়ে না যেতেন, তাহলে হয়তো আমাদের জেলে পচতে হতো, অথবা ফাঁসির মঞ্চে ঝুলতে হতো। এনসিপির কারণেই আজ আমি স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি।
আমি মনে করি, সারাদেশের জনগণ এখনো এনসিপির দিকে তাকিয়ে আছে। এনসিপি রাজপথে নামলে জনগণের অধিকার ফিরে পাবে। আর যদি এনসিপি ঝিমিয়ে যায়, তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যে আবার অন্ধকার নেমে আসবে। তাই আমি প্রত্যেক কর্মীকে আহ্বান জানাই- উজ্জীবিত হয়ে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে আবার রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
ইসহাক সরকার আরও বলেন, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি সারাজীবন সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আমার ওপর যে দায়িত্বই অর্পণ করা হোক, আমি যেন তা ঈমান ও সততার সঙ্গে পালন করতে পারি।
প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত আছি। মনে রাখবেন, এ দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। যদি সেই পরিবর্তন না আনা হয়, তবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা তা আদায় করে নেবো ইনশাআল্লাহ। জনগণের রায়কে যারা ভুলে যেতে চায়, জনগণের অধিকার হরণ করতে চায়- তাদের বিরুদ্ধে আবারও লড়াই গড়ে তোলা হবে।