বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন,
“একাত্তরে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, তারাই এখন চব্বিশের অভ্যুত্থানকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে প্রচার করছে।”
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টির আয়োজনে ‘ভোটারধিকার প্রতিষ্ঠায় জুলাই অঙ্গীকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চব্বিশের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন,
“সেখানে পিআর পদ্ধতি, উচ্চকক্ষ কিংবা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কোনো প্রকৃত রূপরেখা ছিল কি না—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন,
“এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান দাবি একটাই—গণতন্ত্রের উত্তরণ ও জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।”
তিনি আওয়ামী শাসনব্যবস্থাকে একনায়কতান্ত্রিক বলে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন,
“বাংলাদেশে যত সংস্কার হয়েছে—জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মতো মৌলিক রদবদল—সবই বিএনপি’র হাত ধরে এসেছে। অথচ এখন উল্টো বিএনপিকেই সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র চলছে।”
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন,
“আজ যারা নতুন জোট গঠন করছে, তারা কিছুদিন আগেও একে অপরকে বেইমান, দালাল বলে গালি দিত। এখন তারাই কৌশলী নাটকের মাধ্যমে মঞ্চ ভাগাভাগি করছে। কেউ কেউ আবার নতুন দল তৈরি করে কিংবা ভুয়া ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”
গুম, খুন, নিপীড়ন নিয়ে তীব্র ভাষায় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে নজরুল বলেন,
“এই দেশে যারা দিনের আলোয় মানুষ গুম করেছে, রাতের আঁধারে খুন করেছে—তাদের অপরাধের প্রমাণ আজ স্পষ্ট। অথচ বিচার হয় না। কারণ তারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে। যারা বলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিচার বিলম্বিত হবে—তারা রাজনৈতিক মতলববাজ ছাড়া আর কিছু নয়।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নজরুল ইসলাম খান মূলত একটি বিষয়ই স্পষ্ট করেছেন—বিএনপি এখন আর শুধু নির্বাচনী দল নয়, বরং তা একটি জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এবং যারা গণতন্ত্রের নাম করে ভুয়া সংস্কার ও নাটক সাজাচ্ছে, বিএনপি তাদেরও মুখোশ খুলে দিতে প্রস্তুত।