জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেছেন, নির্বাচনের রায়কে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। তার দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও বিকেলে ভোট বর্জনের নাটক মঞ্চস্থ হয়, অথচ ডাকসুর মতো জায়গায় উৎসবমুখর পরিবেশে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে ছাত্রছাত্রীরা ভোট দিয়েছে। তারপরও নির্বাচনের ফল মানতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে, যা তিনি রাজনৈতিক অসততা বলে আখ্যা দেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত ‘৭২ সংবিধান, রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সোমবার তিনি বলেন,
“ভোটের আগে মুখে যতই ফেনা তোলা হোক না কেন, রায় মানার ক্ষেত্রে যদি পিছপা হই তবে চলবে না। জনগণের ভোটে কে নির্বাচিত হবে, কে সরকার গঠন করবে সেটাই নির্ধারিত হবে। আমরা সে রায় মেনে আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাব।”
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা কোনো একক দলের ইস্যু নয়। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি—শুধু এরা নয়, তরুণ ছাত্রছাত্রী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ যাদের রক্ত ঝরেছে, তাদের সেই আত্মত্যাগের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়েই নির্বাচন করতে হবে।”
অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে আবদুল হালিম বলেন,
“১৯৯১ সালে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। দীর্ঘ ১৭৩ দিনের হরতালের পর এটি সংবিধানে যুক্ত হয়। পরে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে ক্ষমতায় এসে ২০১১ সালে সেটি কবর দেয়। তাই আমরা বলি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত এবং এ নিয়ে সব রাজনৈতিক দল প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগণ স্বীকৃতি দেবে না।
সভায় নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী আহসান উল্লাহ শামিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি জোটের চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আজমী, নাগরিক মঞ্চের সদস্য মেজর (অব.) ড. মাসুদুল হাসান, এনডিপির চেয়ারম্যান আবু তাহেরসহ আরও অনেকে।