বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

হাত দিলেই উঠে আসছে পিচ, রাঙ্গাবালীতে ৮০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ না করা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, পিচের পুরুত্ব কম দেওয়া এবং যথাযথ তদারকি ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার […]

হাত দিলেই উঠে আসছে পিচ, রাঙ্গাবালীতে ৮০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে হরিলুট

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫২

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ না করা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, পিচের পুরুত্ব কম দেওয়া এবং যথাযথ তদারকি ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচের স্তর হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এলজিইডির প্রকল্প নথি অনুযায়ী, বাহেরচর বাজার থেকে নেতা বাজার নাদু প্যাদা বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৫১ কিলোমিটার সড়কের পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৮২ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প অনুযায়ী এই সড়কে রাস্তার বেস প্রস্তুত, পাথরের খোয়া বিছানো, প্রাইম কোট, ট্যাক কোট, ২৫ মিলিমিটার পুরু মূল পিচ (কার্পেটিং) এবং এর উপর ১৫ মিলিমিটার সিল কোট দেওয়ার কথা রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং কাজে প্রায় ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং ১৫ মিলিমিটার সিল কোট কাজে প্রায় ১৭ লাখ ৭ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাস্তবে কম পুরুত্ব, নিম্নমানের উপকরণ

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাস্তবে অনেক স্থানে নির্ধারিত পুরুত্ব অনুযায়ী পিচ দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও পাথরের খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পিচ ঢালাইয়ের সময় পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার না করায় রাস্তার উপরিভাগ শক্তভাবে বসেনি। ফলে নতুন নির্মিত রাস্তার বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে টান দিলেই পিচের স্তর উঠে যাচ্ছে।

সরেজমিনে পরিমাপ করে দেখা গেছে, যেখানে ১৫ মিলিমিটার সিল কোট থাকার কথা, সেখানে অনেক স্থানে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিলিমিটার পুরুত্ব পাওয়া গেছে।

এছাড়া প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে এজিং বা সাইড ড্রেসিং করার কথা থাকলেও এখনো অনেক স্থানে সেই কাজ সম্পন্ন হয়নি। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তদারকি ছাড়াই চলেছে পিচ ঢালাই

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ চলাকালীন সময়ে এলজিইডির কোনো প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখা যায়নি।

বিশেষ করে পিচ ঢালাই ও সিল কোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছিল না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

সড়কের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে সাংবাদিকরা বক্তব্য নিতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে অফিস সহায়ক জানান, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৩টা থেকে উপজেলা প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) রাঙ্গাবালীতে উপস্থিত নেই।

তাদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মৃধা বলেন,

রাস্তা করছে, পা দিয়া ছালাইলেও রাস্তা ওঠে যায়। বড় ভাড়ি গাড়ি আসলে দুই দিনও টিকবে না।

স্থানীয় আনছার ডাক্তার বলেন,

এই রাস্তায় গাড়ি চলে বেশি। আমরা ভালোভাবে কাজ করতে বললে তারা উল্টো রাগারাগি করে। আমরা কাজ বন্ধ করতে বলার পরও তারা রাতের আধারে কাজ করেছে।

স্থানীয় ফরহাদ হোসেন বলেন,

বৃষ্টি হইলেই রাস্তা ধুইয়া সরে যাবে। হাত দিয়া খোঁচা দিলে উঠে যায়, গাড়ির চাক্কায়ও উঠে যায়।

স্থানীয় খলিল মিয়া বলেন,

নাম মাত্র ঢালাই দিছে, পা দিয়া খোঁচা দিলে ঢালাই উঠে যায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস জিয়াউল এন্ড ব্রাদার্স-এর কেয়ারটেকার আইয়ুব গাজী বলেন,

আমরা অর্ডার অনুযায়ী কাজ করছি। উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান স্যারের ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়েছে, তাই তিনি অর্ডার দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। এসও আরিফকে আসতে বলা হয়েছে। পুরান রাস্তা মিলাতে গিয়ে কোথাও কম-বেশি হইতে পারে। রোলারের চাপেও এই সমস্যা হইছে। হাতের কাজ সব জায়গায় এক হয় না।

বক্তব্য নিতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট কাজের এসও আরিফ হোসেন দুজনকেই অনুপস্থিত পাওয়া যায়।

অফিস সহায়ক জানান, উপজেলা প্রকৌশলী ভগ্নিপতির মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি চলে গেছেন।

এসও আরিফ হোসেনের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি অফিসে আছেন কিনা তা নিশ্চিত নন, হয়তো সড়ক প্রকল্প এলাকায় তদারকি করতে গেছেন বলে ধারণা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন,

আনীত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কে নিম্নমানের কাজ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়বে।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পের কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।