বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে স্থগিত থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সামনে কিশোরগঞ্জ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে তার অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়া অন্যায়।
সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ফজলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাকে বলা হয়েছে আমি বাতিল হয়ে গেছি, কিশোরগঞ্জ সম্মেলনে যেতে পারব না। এটা সহ্য করা যায় না। আমি এই দলের জন্য জেল খেটেছি, নির্বাসনে থেকেছি। খালেদা জিয়ার নামে ৩০০ বক্তৃতা দিয়েছি—যা বিশ্ব রেকর্ড।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতাদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজির বিরুদ্ধে তিনি নিয়মিত কথা বলেছেন। এজন্য তাকে তিন মাসের জন্য সব কার্যক্রম থেকে স্থগিত করা হয়েছে।
“শাস্তি আমার হয়ে গেছে। এখন সম্মেলনের আগে স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি,” বলেন ফজলু রহমান ।
মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আলাদা রাজনৈতিক শক্তি গড়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন,
“মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে দেশে দল হবে। আমি থাকব কি না, সেটা পরে দেখা যাবে।”
কিশোরগঞ্জে দীর্ঘ আট বছর নেতৃত্ব দেওয়ার স্মৃতি টেনে তিনি বলেন,
“২০০৮ সালে খালেদা জিয়া আমাকে আহ্বায়ক করেন। হামলার শিকার হয়েছি, রক্তাক্ত শরীর নিয়ে সম্মেলনে হাজির হয়েছি। এখন সম্মেলন হবে, হাজারো নেতা-কর্মী আসবে, আর আমি ঢাকায় বসে থাকব—এটা কীভাবে সম্ভব?”
৭৮ বছর বয়সের কথা উল্লেখ করে ফজলু আরও বলেন,
“আমাকে ঘরে বসিয়ে রাখা অন্যায়। এ বয়সে প্রতিটি সময় অমূল্য। সম্মেলনের আগে স্থগিতাদেশ তুলে না নিলে সামনে আমার দুটি পথ—রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া অথবা নতুন রাজনৈতিক পথ খোঁজা।”
তিনি দাবি করেন,
বিদেশে থাকা দুই কোটির বেশি বাংলাদেশির ৯৯ শতাংশই তাকে সমর্থন করবেন। একইসঙ্গে ঘোষণা দেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গড়লে তা ইমরান খানের দলের মতো দাঁড়িয়ে যাবে। “৩০০ আসনে প্রার্থী দাঁড় করানো সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।
ফজলুর এই বক্তব্য বিএনপির ভেতরে নতুন ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার কথায় স্পষ্ট, দলের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে তিনি ভিন্ন পথে হাঁটার জন্য প্রস্তুত।