বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেছেন, গত ১৬ বছর দেশের মসজিদের ইমামরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি। সকল মসজিদের মিম্বর ছিল ফ্যাসিস্ট জালেম সরকারের দখলে। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বক্তব্য দিলে বহু ইমাম চাকরি হারিয়েছেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) পুরানা পল্টনের আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইমাম উলামা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ইমাম ও আলেম-ওলামাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। এর ফলেই জালেম ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে। তার দাবি, দেশের ইমাম-খতিব ও মুসল্লিরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের স্থান হবে না।
মুফতি ফখরুল বলেন, “সকল মসজিদের ইমাম ও খতিবগণ যদি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, তবে ভোট ডাকাতি থেকে শুরু করে দুর্নীতি, চুরি, খুন, ধর্ষণ সব বন্ধ হয়ে যাবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ফ্যাসিস্টদের দোসররা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।”
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনে দেশের ইমাম-খতিব ও আলেমদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
এ সময় তিনি জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহত পঙ্গুদের রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইমাম উলামা পরিষদের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা আবুল কাসেম কাসেমী। সঞ্চালনা করেন পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন আকন্দ। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন আল্লামা হেদায়েত কবীর কাসেমী, ড. মাওলানা মাসুদুর রহমান, সিনিয়র নায়েবে আমির মুহাম্মদ আজম খান, মুফতি এনায়েতুল্লাহ হাফেজ্জীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।