বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নারীর কণ্ঠে প্রশ্ন, কোথায় আমাদের নিরাপত্তা?

নারী জাতি মানবসভ্যতার অর্ধেক, সৃষ্টির ধারক ও বাহক। নারী ছাড়া পৃথিবী যেমন অপূর্ণ, তেমনি নারী ছাড়া মানবজাতির অস্তিত্বও অসম্ভব। অথচ এই নারীকেই আজ চারপাশে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়- সে কি নিরাপদ? রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি নিজ ঘরেও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে গভীর শঙ্কা। যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, হত্যা- এই শব্দগুলো যেন প্রতিনিয়ত নারীদের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ জুলাই ২০২৫, ২০:২১

নারী জাতি মানবসভ্যতার অর্ধেক, সৃষ্টির ধারক ও বাহক। নারী ছাড়া পৃথিবী যেমন অপূর্ণ, তেমনি নারী ছাড়া মানবজাতির অস্তিত্বও অসম্ভব।

অথচ এই নারীকেই আজ চারপাশে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়- সে কি নিরাপদ? রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি নিজ ঘরেও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে গভীর শঙ্কা।

যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, হত্যা- এই শব্দগুলো যেন প্রতিনিয়ত নারীদের জীবনের বাস্তবতা হয়ে উঠছে। নারীরা আজ ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন, আত্মরক্ষার কৌশল শিখে চলেন, তবুও  নেই স্বস্তি।

এই বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা কী ভাবছেন? কীভাবে দেখছেন এই সংকটকে? সেই ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন সানজিদা খানম ঊর্মি।

“সম্মান, শিক্ষা ও শাস্তি- এই হোক নিরাপদ সমাজের মূলভিত্তি”

তানিয়া আহমেদ, প্রভাষক, ফার্মেসী বিভাগ।

আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক ভোরের, যেদিন আমার কন্যাশিশু রাস্তায় বেরিয়ে যাবে নিজের ইচ্ছায়, নিজের মতো করে, ভয় ছাড়াই। কিন্তু বাস্তবতা এমন যে, আজ নারীরা দিনের আলোতেও অনিরাপদ। আমরা ভুলে যাই- নারীও মানুষ।

তাকে মেয়ে, স্ত্রী বা মা হিসেবে নয়- মানবিক মর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে দেখতে শিখতে হবে। এই পরিবর্তন আনতে হবে পারিবারিক পর্যায় থেকেই। শিশুদের শিখাতে হবে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান এবং সহানুভূতি। আর অপরাধীদের জন্য থাকতে হবে ভয়াবহ শাস্তির দৃষ্টান্ত।

শুধু নারী দিবসে ফুল হাতে ছবি তুলে কিছু হবে না। আইনের কঠোর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সচেতনতা বাড়ানোই পারে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো- কার্যকর ও সাহসী সামাজিক পরিবর্তন।

“দশভুজা নারীর জন্য চাই নিরাপত্তার সীমানা”

তিথি হক, প্রভাষক, বাংলা বিভাগ।

নারী মানেই মমতা, ধৈর্য, শ্রম আর ভালোবাসার আরেক নাম। ঘরের কাজ হোক কিংবা বাইরের দায়িত্ব নারী সমান দক্ষতায় সব সামলান। অথচ তাঁকেই আজ ভাবতে হয়, বাসা থেকে বের হলে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষা করবেন। আমার ছাত্রীদের বলি, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কী ভাবো?

কেউ বলে ব্যাগে সেফটিপিন রাখি, কেউ পেপার স্প্রে। কেউ ইউটিউবে আত্মরক্ষার ভিডিও দেখে। সন্ধ্যার পরে বের হলে একা বের হই না। এই উত্তরগুলো আমার হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়। কারণ এই ভয় নারীদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে।

এই বাস্তবতা বদলাতে হলে প্রয়োজন প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সচেতনতা গড়ে তোলা। স্কুলে গুড টাচ–ব্যাড টাচ শেখাতে হবে, আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, রাষ্ট্রকে শুধু আইন বানালেই চলবে না-সেটির বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আর আমরা সবাই পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান -আমাদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে শিখলে তবেই নারী নিরাপত্তার বাস্তব রূপ আমরা দেখতে পারব।

“নারীর জন্য নিরাপদ দেশ গড়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার”

ফারজানা আক্তার, ১ম বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ।

বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে- শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো সবখানেই অগ্রগতি দৃশ্যমান। কিন্তু নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা এখনও ভীষণ পিছিয়ে। পত্রিকার পাতায় প্রতিদিন ধর্ষণ কিংবা নিপীড়নের খবর পড়ে আমরা স্তব্ধ হই, আতঙ্কিত হই, কিন্তু কতটুকু পরিবর্তন হয়?

একবার আমিও এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। সেই সময়টায় আমি ভেঙে পড়িনি, বরং শিখেছি কীভাবে নিজেকে সুরক্ষা দিতে হয়। আত্মরক্ষার প্রাথমিক কৌশল শিখেছি, আশপাশের নারীদেরও সচেতন করেছি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন সবসময় নারীকেই এসব ভাবতে হয়? কেন রাষ্ট্র, সমাজ বা প্রশাসন নারীর সুরক্ষায় সক্রিয় নয়? আমরা চাই আইনের সঠিক ও দ্রুত প্রয়োগ হোক, পুলিশ-প্রশাসন ও আদালতে যেন নারী সম্মান পায়।

বিচার হোক জনসম্মুখে, দৃষ্টান্তমূলকভাবে। নারী যেন আতঙ্ক নয়, সাহস নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারে, পথ চলতে পারে—সেই সমাজ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

“ভয় নয়, চাই কার্যকর বিচার ও নিরাপত্তা”

আফরা, ৩য় বর্ষ, আইন বিভাগ।

আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে অপরাধীরা বারবার সুযোগ পায়, আর ভুক্তভোগীরা কাঁদে চোখের সামনে ন্যায়বিচার দেখা তাদের ভাগ্যে জোটে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে সবচেয়ে বেশি।

ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের পরও বহু ঘটনা চেপে যায়, নতুবা বিচার হতে হতে বছর কেটে যায়। অথচ নারীদের চলাফেরা, পোশাক, সামাজিক ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে বারবার। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ নয়, নিশ্চিত হবে।

অপরাধী শাস্তি পাবে। এটাই হবে স্বাভাবিক চিত্র। রাষ্ট্র যদি চায় নারীর অধিকার রক্ষা করতে, তবে আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করে, দৃঢ়ভাবে বিচারের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের আইনের পাশাপাশি চাই শক্তিশালী সামাজিক সচেতনতা ও সমষ্টিগত উদ্যোগ।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।