রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সংসদ সদস্য, বলেছেন যে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবারও আওয়ামী ধাঁচে শাসন পরিচালনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতিকে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানানো সম্ভব নয়, কারণ তিনি অতীতে সংঘটিত কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং শেখ হাসিনা-র কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেননি; বরং সবকিছুতে সহযোগিতা করেছেন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী-কে দ্রুত অপসারণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
সরকারি দলের সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যা নেই, বরং বিরোধী দলই একমাত্র সমস্যা। অথচ বাস্তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম, এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো গুরুতর বিষয়গুলো উপেক্ষিত হচ্ছে।
১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে একযোগে কাজ হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই জামায়াতকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
২০১৩ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের “লংমার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোতে বড় ধরনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময় খালেদা জিয়া এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া অন্য অনেক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব ছিল, এবং গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করলে বর্তমান অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন, জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশনে নিয়োগ, এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্বিন্যাস তার উদাহরণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে নির্যাতিত ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের বদলে আবারও ওএসডি করা হচ্ছে, আর বিতর্কিত ব্যক্তিরা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে পদোন্নতিও পাচ্ছেন।