দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)
উজানের ভারী বর্ষণের প্রভাবে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পাহাড়ি খরস্রোতা সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদী পারাপারে দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিজয়পুর পয়েন্ট দিয়ে উজানের পানি প্রবেশ করায় হঠাৎ করেই নদীর পানি বাড়তে থাকে। ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পানি বাড়ার ফলে তেরী বাজার ঘাট থেকে শিবগঞ্জ ঘাট এবং বিরিশিরি ঘাট থেকে দক্ষিণ ভবানীপুর ঘাট এলাকায় নির্মিত কাঠের সেতুগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং নৌকায় পারাপারের সময় ঝুঁকি বাড়ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়া বলেন, সকাল থেকেই পানি দ্রুত বাড়ছে। কাঠের সেতুটি পানির নিচে চলে যাওয়ায় এখন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে।
অটোরিকশাচালক আলী হোসেন জানান, আগে সেতু থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে পারাপার করা যেত, কিন্তু এখন গাড়িসহ পার হওয়া অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে দুর্গাপুর পয়েন্ট ও কংশ নদীতেও পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে মাঠে থাকা বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের আগাম সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।