জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ আসন এখন রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর উদাহরণ হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব এ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের আসন সমজোতার ভিত্তিতে এই আসনে বিএনপি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী দেয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সমজোতায় আসনটি ছেড়ে দেয় গণঅধিকার পরিষদকে। সে অনুযায়ী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তবে ঘোষণার পরপরই শুরু হয় অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি।
বিএনপি’র সাথে সমঝোতার প্রার্থী হলেও নুরুল হক নুর এলাকায় বিএনপির প্রত্যাশিত সাংগঠনিক সমর্থন পাচ্ছেন না। বরং স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ প্রকাশ্যেই মাঠে নেমেছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (বর্তমানে বহিষ্কৃত) হাসান মামুনের পক্ষে।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, “এলাকায় বিএনপির প্রায় নব্বই শতাংশ নেতা-কর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।”
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন হাসান মামুন। পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব অটুট রয়েছে। গলাচিপা ও দশমিনায় তার আয়োজিত ঘরোয়া বৈঠকগুলোতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সকল স্তরের নেতাদের নিয়মিত উপস্থিতি তারই প্রমাণ।
হাসান মামুনের দাবি, “আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বিএনপিকে বাঁচাতেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। এই আসনটি জোটকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এখানকার মানুষ চায় এই আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী থাকুক।”
তিনি আরও বলেন, “এই সিট যদি গণঅধিকার পরিষদকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে আগামী ত্রিশ বছরেও বিএনপি এই আসন ফিরে পাবে না।”
এই পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না থাকলেও হাসান মামুন কার্যত বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুরের সঙ্গে বিএনপির মাঠপর্যায়ের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
শুধু পটুয়াখালী-৩ নয়, শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া অন্যান্য আসনগুলোতেও বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি জোট রাজনীতিতে অনাস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, “ভারসাম্যপূর্ণ সংসদের স্বার্থে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম বিএনপি অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি আসন মিত্রদের ছেড়ে দেবে। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকটি আসন ছাড়া হওয়ায় তৃণমূলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—এই জোট ও সমজোতা কতটা কার্যকর?”
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসন এখন রাজনীতির সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বনাম তৃণমূলের মনোভাব—এই দ্বন্দ্বের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।