সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগে ৮০% অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন এবং প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে আজ, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫, লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক তীব্র মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদী হরিজন নেতারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘অন্যায় প্রহসন’ এবং ‘চরম দুর্নীতি’র অভিযোগ এনেছেন এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
৫ ডিসেম্বরের পরীক্ষা জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অধীনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এই পদে আবেদনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাশ। এই পদে আবেদনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এসএসসি পাশ প্রতিবাদকারী হরিজন নেতারা অভিযোগ করেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র না করে পরীক্ষার্থীদের অফিস সহায়ক (এসএসসি মানের) পদের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
এনাদের মধ্যে একজন জুয়েল কুমার বাসফোর (হরিজন সম্প্রদায়) বলেন “আমাদের হরিজন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এমনিতেই শিক্ষায় পিছিয়ে।
যেখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য অষ্টম শ্রেণির মানের প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল, সেখানে এসএসসি পদের কঠিন প্রশ্ন দিয়ে আমাদের কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্রের এই কারচুপির কারণেই গতকালের পরীক্ষায় আমাদের জনগোষ্ঠী থেকে একজনকেও উত্তীর্ণ করা হয়নি।”
প্রতিবাদ মিছিলে হরিজন নেতারা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অর্থ লেনদেন ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেন। তারা দাবি করেন, একটি চিহ্নিত মহল বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হরিজন কোটা উপেক্ষা করে সাধারণ প্রার্থীদের পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
হরিজন জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভাগীয় প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে। একটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার ও কোটার সুবিধা নিশ্চিত করতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি।