বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

২৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদনেও নেই কৃষি বিভাগে তদারকি, সরকারের সহযোগীতা চান চাষীরা

মোঃ.হাসনাইন আহমেদ প্রবাদ আছে ‘ধান সুপারি ইলিশের গোলা, এই তিনে ভোলা’। দেশের এক মাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় ধান, সুপারি, আর ইলিশে স্বয়ংসম্পন্ন। তবে ধান আর ইলিশ উৎপাদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো সক্রিয় ভুমিকা পালন করলেও সুপারির বিষয়ে তদারকি নেই কারোই। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন সুপারি চাষীরা। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় ১২ হাজার […]

২৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদনেও নেই কৃষি বিভাগে তদারকি, সরকারের সহযোগীতা চান চাষীরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৩৯

মোঃ.হাসনাইন আহমেদ

প্রবাদ আছে ‘ধান সুপারি ইলিশের গোলা, এই তিনে ভোলা’। দেশের এক মাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় ধান, সুপারি, আর ইলিশে স্বয়ংসম্পন্ন। তবে ধান আর ইলিশ উৎপাদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো সক্রিয় ভুমিকা পালন করলেও সুপারির বিষয়ে তদারকি নেই কারোই। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন সুপারি চাষীরা।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ৯৬ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা পাকা সুপারি উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা। হেক্টর প্রতি কাঁচা ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন সুপারির ফলন হয়েছে। শুকনোর পর যা হেক্টর প্রতি ৫ মেট্রিক টন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

তবে চাষীরা বলছেন, চাষীদের একক প্রচেষ্টায় সুপারি শত বছর ধরে কৃষি পন্য ও দেশের অর্থনীতিতে ব্যপক ভুমিকা রাখছে। বছরে কোটি কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হলেও সরকার বা স্থানীয় কৃষি বিভাগের নেই কোন তদারকি বা উদ্যেগ। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন তারা। চাষীরা নিজ উদ্যেগে সুপারিকে আজ অন্যতম বানিজ্যিক ফসলে পরিনত করেছে।

তাদের অভিযোগ, জেলার অন্যতম অর্থকরী এ ফসলে প্রচার ও প্রসারে কৃষি বিভাগের নেই কার্যক্রম। শুধু কাগজ কলমে হিসাব রাখার মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ। কৃষি বিভাগের কোনো প্রকল্প বা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির নির্দেশনা না থাকায় কৃষকেরা

এখনও সেই পুরনো ধাঁচে সুপারি চাষ করছেন। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগতমান ও বিপণনে রয়েছে নানা সমস্যা। এই খাত উন্নয়নের জন্য সরকারি বেসরকারি উদ্যেগ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তারা।

চাষীদের তথ্যমতে, ভোলায় ‘গা’ ও ‘ভি’ হিসেবে সুপারি কেনাবেচা চলছে। ৩২০ পিছ সুপারিকে বলা হয় এক ‘ভি’ এবং ১০ পিচ সুপারিকে বলা হয় ১ গা। একেকটি গাছ থেকে দুই থেকে তিন ভি সুপারি পাওয়া যায়। এবছর প্রতি ভি সুপারি সাইজ অনুযায়ী ৪৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সুপারি মূলত পানের সঙ্গে খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এর ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এছাড়াও পশুখাদ্য, প্রাকৃতিক রঙ তৈরি ও হস্তশিল্পসহ নানাবিধ কাজে ব্যবহার হয়। স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় ভোলার সুপারির কদর রয়েছে সারা দেশেই।

অন্য কৃষি ফসলের তুলনায় সুপারি অনেক লাভজনক। যেখানে ধান বা সবজি বছরে শতাংশ প্রতি এক থেকে দেড়হাজার টাকার ফসল পাওয়া যায়। সেখানে সুপারি পাওয়া যায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। একেকটি গাছ থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ বছর পযর্ন্ত ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও সুপারি গাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিবেশ রক্ষায় ভুমিকা পালন করে।

ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার কয়েকটি সুপারি বাগান ঘুরে দেখা যায়, সুপারি চাষীদের ভরা মৌসুম চলছে। তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি বাগানে যেন এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দিনেও রাতে সুপারি বাগানগুলো জাকজমক হয়ে উঠেছে।

গাছ থেকে সুপারি পারতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। তারা এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে গিয়ে সুপারি পারছেন। ভোলার প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা মিলছে সুপারি আর সুপারি। এ যেন জেলা জুড়ে নবান্ন উৎসবের মত ভিন্ন আমেজ কাজ কাজ করছে।

শ্রমিকরা পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতিটি গাছ থেকে সুপারি পেড়ে একেক ছরা সুপারির জন্য ৭ টাকা করে নেন। এতে তারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা খুব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, এক গাছ থেকে লাফিয়ে অন্য গাছে উঠে নামিয়ে আনেন সুপারির ছরা।

ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ির জাকির হাওলাদার বলেন, আমার দেড় একর জমিতে ১৫০০ সুপারি গাছ রয়েছে। এ বছর গাছের পাতা লাল হয়ে শতাধিক গাছ মারা গেছে। কৃষি বিভাগের সহায়তা না পাওয়ায় আমরা গাছের সঠিক যত্ন করতে পারছি না। ফলে আমাদের ফলন কম বেশি বোঝার উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর তাদের এই বাড়িতেই প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার সুপারি উৎপাদন হয়। কিন্তু তাতেও কৃষি অফিস থেকে নূন্যতম সারা পাওয়া যায় না। কয়েকবার কৃষি অফিসে গেলেও কর্মকর্তারা তেমন গুরুত্ব দেয় না। সুপারি খাতের প্রতি সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

দৌলতখান উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,

‘আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতায় সুপারি চাষ করি। কিন্তু কীভাবে ফলন বাড়ানো যায় বা রোগবালাই প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে কেউ আসেন না। সরকারের সহায়তা পেলে আমরা আরও ভালোভাবে উৎপাদন করতে পারতাম।’

কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোলার জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণ সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি প্রণোদনা পেলে এ খাত থেকে জেলার অর্থনীতিতে আরও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব যোগ হতে পারে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, ভোলার সুপারির বেশ সুনাম রয়েছে। স্বাদ ও মানে ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। সুপারি উৎপাদনে ভোলার অর্থনীতিতে ব্যাপক ভুমিকা রাখলেও সরকারিভাবে এর জন্য সহায়তা বরাদ্দ নেই। তবে সুপারি চাষীরা যদি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে কৃষি বিভাগ। এছাড়াও সুপারি চাষীদের যেকোন পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ছয় কোটি ৪২ লাখ সুপারি গাছ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি এর সংখ্যা আরও বেশি অনেক বেশি।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।