বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৫ শতাধিক আটক অর্ধশতাধিক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পলো বাইছকারি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার জন্য অনেক পলো বাইছকারি ধনু নদীতে ঝাঁপ দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পলো বাইছকারি লোকজনের বহনকারী […]

নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৫ শতাধিক আটক অর্ধশতাধিক

প্রতীকী ছবি

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ মার্চ ২০২৫, ২০:৩৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পলো বাইছকারি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার জন্য অনেক পলো বাইছকারি ধনু নদীতে ঝাঁপ দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পলো বাইছকারি লোকজনের বহনকারী শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও লেগুনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু যানবাহন আগুন দিয়ে পুড়ি দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পলো বাইছকারীদের সাথে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো মকবুল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৫১ জনের মতো পলো বাইছকারীকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, বারহাট্টা, মদন, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, আটপাড়া ও খালিয়াজুর উপজেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল কিশোরগঞ্জের তারাকান্দা ও আটারবাড়ি এলাকার লোকজন প্রতিবছরই সরকারি জলমহালে পলো বাইছ করে মাছ ধরে। এবছরও গত ১৫-২০ দিন ধরে এসব অঞ্চলের লোকজন পলো নিয়ে বিভিন্ন জলমহালে মাছ ধরে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার সকালে খালিয়াজুরী উপজেলার মাছ ধরতে যায়। ইজারাদার তাদের নিজ এলাকা জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামের লোকজনদের নিয়ে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেয়। সকালে পলো বাইছকারি লোকজন আসতে দেখে ওই দুই গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় ওই এলাকায় রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য অনেকের নদীতে ঝাপ দিয়ে আর উঠে আসতে পারে নি। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পলো বাইছকারী লোকজন যেসব যানবাহন নিয়ে এসেছেন তা ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হয়েছে। এর মধ্যে পিকআপ, লেগুনা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের খালিয়াজুরির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার রেজওয়ান এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী এবং খালিয়াজুরী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় পলো বাইছকারীদের মধ্যে থেকে ৬০ জনের মতো আটক করেছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের তারাকান্দা ও আঠারবাড়ি উপজেলার পোলো বাইশ করতে আসা অনেকেই নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমরা ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি পলো নিয়ে এসব এলাকায় ফাল্গুন চৈত্র মাসে মাছ ধরতে আসে। এই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। এই সুবাদে আমরা মাছ ধরতে আসি। বিলে নামার আগেই জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামের লোকজন আমাদের উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় আমাদের অন্তত ৭ থেকে ৮শ লোক আহত হয়েছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নাম প্রকাশন অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, জগনাথপুর এবং রসুলপুরের মানুষ আগে থেকেই আমাদেরকে উপর হামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যদি না আসতো তাহলে কয়েকশ মানুষকে মেরে ফেলতে তারা। তবে আত্মরক্ষা করার জন্য অনেকেই ধনু নদীতে চাপ দিয়েছিল এদের মধ্যে বেশ কিছু লোককে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।

রসুলপুর গ্রামের অধীর চন্দ্র দাস আবির জুলহাস পিপুল জুনায়েদ রুবেল সহ অনেকেই বলেন, নৌকাতে তাদেরকে রসুলপুরের ধনু নদী পার না করার কারণে আমাদের গ্রামে তারা আক্রমণ করে। বাজারে দোকানে লুটপাট শুরু করে। পরে আমাদের গ্রামবাসী মাইকিং করে দেশীয় সশস্ত্র নিয়ে প্রতিহত করি। পরে উৎসুক জনতা পলো বাইছকারীদের বহনকারী যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেয়।

তারা আরো বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে জলমহাল ইজারা নেয়। আর এরকম দুষ্কৃতিকারীরা পলো নিয়ে এসে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে প্রতিবছরই জলমহালের ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই যাতে এরকমভাবে পলো বাইছকারিরা যাতে এরকম না করতে পারে এ ব্যাপারে প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার খালিয়াজুরী উপজেলার দায়িত্বে থাকা রেজাউল বলেন, সকালে পলো বাইছকারী খালিয়াজুরী এলাকায় জলমহলে মাছ ধরতে যাওয়ার খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে আমরা যাওয়ার পথে সবাইকে সংঘর্ষ না যাওয়াতে অনুরোধ করি। এ সময় তেমন কিছু ঘটেনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কিছু লোককে আটক করা হয়েছে।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, খালিয়াজুরীতে পলো নিয়ে অবৈধভাবে সরকারী জলমহালে মাছ ধরতে গিয়েছিল কয়েক হাজার লোক। পরে গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষে হয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অর্ধশতাধিক লোক আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।