বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৫ শতাধিক আটক অর্ধশতাধিক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পলো বাইছকারি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার জন্য অনেক পলো বাইছকারি ধনু নদীতে ঝাঁপ দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পলো বাইছকারি লোকজনের বহনকারী […]

নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৫ শতাধিক আটক অর্ধশতাধিক

প্রতীকী ছবি

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ মার্চ ২০২৫, ২০:৩৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পলো বাইছকারি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার জন্য অনেক পলো বাইছকারি ধনু নদীতে ঝাঁপ দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পলো বাইছকারি লোকজনের বহনকারী শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও লেগুনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু যানবাহন আগুন দিয়ে পুড়ি দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পলো বাইছকারীদের সাথে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো মকবুল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৫১ জনের মতো পলো বাইছকারীকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, বারহাট্টা, মদন, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, আটপাড়া ও খালিয়াজুর উপজেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল কিশোরগঞ্জের তারাকান্দা ও আটারবাড়ি এলাকার লোকজন প্রতিবছরই সরকারি জলমহালে পলো বাইছ করে মাছ ধরে। এবছরও গত ১৫-২০ দিন ধরে এসব অঞ্চলের লোকজন পলো নিয়ে বিভিন্ন জলমহালে মাছ ধরে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার সকালে খালিয়াজুরী উপজেলার মাছ ধরতে যায়। ইজারাদার তাদের নিজ এলাকা জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামের লোকজনদের নিয়ে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেয়। সকালে পলো বাইছকারি লোকজন আসতে দেখে ওই দুই গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় ওই এলাকায় রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য অনেকের নদীতে ঝাপ দিয়ে আর উঠে আসতে পারে নি। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পলো বাইছকারী লোকজন যেসব যানবাহন নিয়ে এসেছেন তা ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হয়েছে। এর মধ্যে পিকআপ, লেগুনা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের খালিয়াজুরির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার রেজওয়ান এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী এবং খালিয়াজুরী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় পলো বাইছকারীদের মধ্যে থেকে ৬০ জনের মতো আটক করেছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের তারাকান্দা ও আঠারবাড়ি উপজেলার পোলো বাইশ করতে আসা অনেকেই নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমরা ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি পলো নিয়ে এসব এলাকায় ফাল্গুন চৈত্র মাসে মাছ ধরতে আসে। এই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। এই সুবাদে আমরা মাছ ধরতে আসি। বিলে নামার আগেই জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামের লোকজন আমাদের উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় আমাদের অন্তত ৭ থেকে ৮শ লোক আহত হয়েছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নাম প্রকাশন অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, জগনাথপুর এবং রসুলপুরের মানুষ আগে থেকেই আমাদেরকে উপর হামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যদি না আসতো তাহলে কয়েকশ মানুষকে মেরে ফেলতে তারা। তবে আত্মরক্ষা করার জন্য অনেকেই ধনু নদীতে চাপ দিয়েছিল এদের মধ্যে বেশ কিছু লোককে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।

রসুলপুর গ্রামের অধীর চন্দ্র দাস আবির জুলহাস পিপুল জুনায়েদ রুবেল সহ অনেকেই বলেন, নৌকাতে তাদেরকে রসুলপুরের ধনু নদী পার না করার কারণে আমাদের গ্রামে তারা আক্রমণ করে। বাজারে দোকানে লুটপাট শুরু করে। পরে আমাদের গ্রামবাসী মাইকিং করে দেশীয় সশস্ত্র নিয়ে প্রতিহত করি। পরে উৎসুক জনতা পলো বাইছকারীদের বহনকারী যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেয়।

তারা আরো বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে জলমহাল ইজারা নেয়। আর এরকম দুষ্কৃতিকারীরা পলো নিয়ে এসে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে প্রতিবছরই জলমহালের ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই যাতে এরকমভাবে পলো বাইছকারিরা যাতে এরকম না করতে পারে এ ব্যাপারে প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার খালিয়াজুরী উপজেলার দায়িত্বে থাকা রেজাউল বলেন, সকালে পলো বাইছকারী খালিয়াজুরী এলাকায় জলমহলে মাছ ধরতে যাওয়ার খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে আমরা যাওয়ার পথে সবাইকে সংঘর্ষ না যাওয়াতে অনুরোধ করি। এ সময় তেমন কিছু ঘটেনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কিছু লোককে আটক করা হয়েছে।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, খালিয়াজুরীতে পলো নিয়ে অবৈধভাবে সরকারী জলমহালে মাছ ধরতে গিয়েছিল কয়েক হাজার লোক। পরে গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষে হয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অর্ধশতাধিক লোক আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।