ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অংশ নিতে চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি একটি টক শোতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, শেখ হাসিনা পতনের পরেও ছাত্রদল প্রথম দিন থেকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শিবির ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছিল এবং ছাত্রলীগের ভেতরে প্রবেশ করে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে পেরেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে জামায়াত-শিবির ছাত্রদলকে প্রথমেই ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ফলে ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনে কার্যকর প্রস্তুতি নিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল তো অংশ নিতেই চায়নি। বিএনপিও এই সময়ে নির্বাচন চায়নি। এ নির্বাচনটা বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তার মতে, শিবির নিয়মিত ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেইন করেছে, নানা কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকেছে এবং শিক্ষার্থীদের মন জয় করার জন্য যা যা প্রয়োজন সব করেছে। এর বিপরীতে ছাত্রদলকে কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি সমর্থিত তিন শিক্ষকসহ আরেকজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপির বাইরে অন্য প্যানেলও নির্বাচন বয়কট করেছে। তার ভাষায়, “এখন পর্যন্ত আমি কোনো গ্রহণযোগ্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেখিনি।”
উল্লেখ্য, সদ্য অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে শীর্ষ ২৮ পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। একইভাবে জাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ ২৫টির মধ্যে ২০টি পদে বিজয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্ররাজনীতিতে শিবিরের এ সাফল্য নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে ছাত্রদল এখনো সংগঠিত হওয়ার মতো পরিবেশ পায়নি।