মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

যশোর (ডিবি) কর্তৃক ডাকাতি মামলা সহ কয়েকটি চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন, লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার, গ্রেফতার-১৪ জন

হাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : গত ইং ০১/০২/২০২৫ খ্রিঃ শুক্রবার দিবাগত রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকা হতে রাত অনুমান ০২.৫৫ ঘটিকার মধ্যে কোতয়ালী মডেল থানাধীন নতুন উপশহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিপরীত পার্শ্বে গোল্ডেন বাইক নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড আবুল হোসেন(৫৫) কে জিম্মি করে অজ্ঞাতনামা ডাকাত/ডাকাতেরা শাটারের তালা ভেঙ্গে মোট ২৩,১০,০০০/- টাকার ব্যাটারী সহ অন্যান্য মালামাল […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৯:৫১

হাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

গত ইং ০১/০২/২০২৫ খ্রিঃ শুক্রবার দিবাগত রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকা হতে রাত অনুমান ০২.৫৫ ঘটিকার মধ্যে কোতয়ালী মডেল থানাধীন নতুন উপশহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিপরীত পার্শ্বে গোল্ডেন বাইক নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড আবুল হোসেন(৫৫) কে জিম্মি করে অজ্ঞাতনামা ডাকাত/ডাকাতেরা শাটারের তালা ভেঙ্গে মোট ২৩,১০,০০০/- টাকার ব্যাটারী সহ অন্যান্য মালামাল ডাকাতি করে নেয় এবং দোকানের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিক্স খুলে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-১, তাং-০১/০২/২০২৫খ্রিঃ, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়। 

ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা সহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), যশোরকে ঘটনা উদঘাটনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। 

পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে জেলা পুলিশ ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহ ডিবি’র এসআই/ রাজেশ কুমার দাশ, এসআই/ খান মাইদুল ইসলাম রাজিব, এসআই/মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআই/ বিপ্লব সরকার, কনস্টেবল আব্দুল বাতেন সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গত ইং ০৪/০২/২০২৫খ্রিঃ অভিযান পরিচালনা করে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে বরিশাল এলাকায় ডাকাতি সংঘটন করে ফিরে যাওয়ার সময় ডাকাত দলকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলে পুলিশের বাঁধা ডিঙ্গিয়ে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার ব্যারিকেড ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। তখন ডিবি’র টিম আসামিদের পিছনে ধাওয়া করলে তারা একটি মিনি ট্রাকে ডাকাতি করে আনা গ্যাসের সিলিন্ডার ডিবি’র গাড়িকে লক্ষ্য করে বারবার ছুড়তে থাকে। 

একপর্যয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত পার হয়ে আসামিরা এক্সপ্রেস ওয়ের ফাঁকা জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার সহ মিনি ট্রাকটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তখন ডিবির টিম উক্তস্থান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি মিনি ট্রাকটি জব্দ করে এবং আসামিদের গ্রেফতারের নিমিত্তে অভিযান পরিচালনা অব্যহত থাকে।

পরবর্তীতে ডিবি কর্তৃক সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্যদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে গত ইং ১৭/০২/২০২৫খ্রিঃ ডাকাতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে। এবং অভিযান পরিচালনাকালে ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ দুপুর অনুমান ১২.১০ ঘটিকায় মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা এলাকা হতে আসামি মোঃ আলমগীর হোসেন(৫৯), পিতা-মৃত লতিফ মোল্লা’কে গ্রেফতার পূর্বক তার হেফাজত হতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি কাঁটার ও দড়ি উদ্ধার পূর্বক জব্দ করে। 

ধৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন আসামি মোঃ নজরুল ইসলাম(৫০), পিতা-মৃত শামসুদ্দিন মিয়া এর গ্যারেজ হতে আসামি ডাকাত সর্দ্দার মোঃ হিরা রহমান @বিজয় হোসেন(২৬), পিতা-আমজাদ হোসেন, রবিন মোল্লা(৩৯), পিতা-দুদু মোল্লা, মোঃ রাকিব@ভাগ্নে রাকিব(২৫), পিতা-সাদেক হোসেন, মোঃ সোহেল(৩২), পিতা-মৃত টোকন, মোঃ আমির হোসেন(৫৮), পিতা-মৃত হাশেম’দেরকে গত ইং ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ বেলা১৩.৩০ ঘটিকায় গ্রেফতার করে। 

ধৃত আসামিদের হেফাজত থেকে একটি কাটার, একটি দা, সেলাই রেঞ্জ, ২টি গ্রান্ডিং মেশিন, ০১টি সাদা পিক আপ, ০২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, কালো তার, রড এবং ০২ টি ওয়েলন্ডিং মেশিন, ০৩ টি টায়ার মালামাল সমূহ ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ বেলা ১৩.৪৫ ঘটিকায় জব্দ করে। 

ধৃত আসামিদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানাই গত ইং ০১/০২/২০২৫খ্রিঃ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকায় যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন উপশহরের কবরস্থান মেইন রোডস্থ গোল্ডেন বাইক শোরুমের নাইট গার্ডকে জিম্মি করে ব্যাটারী, টায়ার ও খুচরা যন্ত্রাংশ ডাকাতি করে নিয়ে যায়। 

ধৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গত ২৫/০১/২০২৫খ্রিঃ রাত ০২.০০ঘটিকায় চাঁচড়া বাজার মোড় সংলগ্ন সবুজ মৎস খামার ও মৎস অক্সিজেন নামক দোকানের তালা ভেঙ্গে ৫২ পিচ অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি করে নেয়। 

এছাড়াও যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন মুড়লী মোড় হতে ২২/১২/২০২৪খ্রিঃ রাত অনুমান ০১.০০ ঘটিকায় একটি দোকানের তালা ভেঙ্গে অনুমান ১৫,০০,০০০/-টাকা মূল্যের টায়ার চুরি করে নিয়ে যায়। 

উপরোক্ত মালামাল সমূহ উদ্ধারের লক্ষ্যে ধৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবা করার এক পর্যায়ে তাদের প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির লুন্ঠিত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারী যাত্রাবাড়ি এলাকার মোঃ জুয়েল মাতুব্বর(৪০), পিতা-মৃত তোরাব আলী মাতুব্বর এর নিকট হতে নতুন ৩০টি ও পুরাতন ০৭টি ব্যাটারি ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ ১৬.১০ ঘটিকায় উদ্ধার করা হয় এবং ডাকাতির লুন্ঠিত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারী টঙ্গিবাড়ি এলাকার মোঃ আলমগীর শেখ(৪০), পিতা-মোফাজ্জেল শেখ কে গ্রেফতার করতঃ তার হেফাজত হতে সর্বমোট ৩০টি ইজিবাইকের ব্যাটারি ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ ১৬.৪০ ঘটিকায় উদ্ধার করা হয় এবং চোরাইমাল ক্রয়-বিক্রয়কারী মোঃ জাহিদ(৩০), পিতা-মৃত মকবুলকে উক্তস্থান হতে গ্রেফতার করা হয়। 

এছাড়াও খিলগাঁও থানাধীন চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারী আসামি আব্দুল কাদের (৩২), পিতা-মৃত আব্দুল শুকুর খাঁন কে গ্রেফতার পূর্বক তার হেফাজত হতে ২৬টি চোরাই অক্সিজেন সিলিন্ডার উদ্ধার করতঃ ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ ১৯.২০ ঘটিকায় জব্দ করা হয়। 

পলাতক আসামি তোফাজ্জল, পিতা-অজ্ঞাত, সাং-অজ্ঞাত, কদমতলী এর নিউ আজা আয়রন মার্কেট, পোস্তখোলা আলীবহর, ঢাকা দোকান হতে ১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ ২১.৩০ ঘটিকায় জব্দ করা হয় এবং উক্তস্থান হতে চোরাই মাল ক্রয়বিক্রয়কারী আসামি বাবলু রহমান @ বাবু(৩৫), পিতা-মৃত আব্দুল জলিল, মোঃ নিজাম উদ্দিন(৪৮), পিতা-মোঃ আবুল মিয়া’দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ পুলিশ প্রহরার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত মালামালঃ

১।ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি কাটার ও দড়ি উদ্ধার

২।একটি কাটার, একটি দা, সেলাই রেঞ্জ, ২টি গ্রান্ডিং মেশিন, ০১টি সাদা পিক আপ, কালো তার, রড, ০২ টি ওয়েলন্ডিং মেশিন

৩। ব্যাটারি ৬৭ টি (নতুন+পুরাতন)

৪। অক্সিজেন সিলিন্ডার ৪৪টি

৫।মিনি ট্রাক ভর্তি গ্যাস সিলিন্ডার ১১০টি

৬। ০৩ টি টায়ার।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।