বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, “তুমি কী চাও সেটাই আসল। যে কাজে তুমি দক্ষ, সেটি খুঁজে নাও এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাও।” তিনি মনে করেন, সবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বা এ প্লাস পাওয়া জরুরি নয়, কারণ প্রত্যেক মানুষের সাফল্যের পথ ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দেবিদ্বার পাবলিকিয়ান অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পড়াশোনায় ভালো না হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়া অপরিহার্য। কেউ রান্নায় পারদর্শী, কেউ ছবি আঁকায়, আবার কেউ গান গাইতে পারে—এসব প্রতিভাই পেশা হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহকে চিহ্নিত করা। জোর করে চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা বা ক্যারিয়ার কেবল সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়।
মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা যে যাই না কেন—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পী বা অন্যকিছু—অন্তত এমন একজন হতে হবে, যার কারণে আরেকজন কষ্ট না পায়। অন্যকে সাহায্য করতে না পারলেও অন্তত ক্ষতি যেন না করি।”
পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, যে কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য সালাত ও ধৈর্যের শক্তি প্রয়োজন। এই দুই মাধ্যমই প্রকৃত সাফল্যের পথ খুলে দেয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবিদ্বার পাবলিকিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম ও জারিন আনান। এতে বক্তব্য রাখেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খান, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ইয়াজ মাহমুদ ও সিন্ডিকেট সদস্য এবি রুপম।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় দেবিদ্বার থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।