মোঃ মনিরুজ্জামান , ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া সাবমারসিবল সড়ক এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙ্গুড়া থেকে নওগাঁগামী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও তার সংযোগ সড়কের একাংশ ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে আছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার ব্রিজের একপাশের সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণ ভেঙে নিচে নেমে গেছে। ভাঙা অংশে পানি জমে কচুরিপানায় ঢেকে গেছে পুরো এলাকা। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে কাদা জমে রয়েছে, যা চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
কোনো ধরনের সতর্কতামূলক চিহ্ন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এই সড়কটি শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করে বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করেন। এছাড়াও কৃষি পণ্য পরিবহনের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সড়কটিতে শুধু যানবাহন চালকরাই নন, পথচারীদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। চলনবিল অঞ্চলের কৃষিনির্ভর এই এলাকায় উৎপাদিত ধান, পাট ও শাকসবজি বাজারে নিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা।
সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে না, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। বিকল্প পথেও রয়েছে ঝুঁকি। সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে অন্যের জমির আইল দিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে জমির মালিকদের সাথেও মাঝে মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এই বিকল্প পথও পানিতে তলিয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চলমান থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।