বিএনপির আলোচিত নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তবে এ জায়গায় অন্য রাজনৈতিক শক্তি উঠে আসবে। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এখন কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, “আমি পলিটিক্যাল সাইন্সের ছাত্র, বিষয়গুলো বুঝি। বিএনপি যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাঁড়ায়, সেটাই দলের জন্য ভালো হবে। আমিও এই দলের সঙ্গে আছি, তাই চাই বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই অবস্থান নিক।”
তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের দালাল বলেছিল, দুষ্কৃতিকারী আখ্যা দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে টিক্কা খান পাঁচ লাখ মানুষ হত্যা করে, বুড়িগঙ্গা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত ৯০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। তখন প্রথম যে ব্যক্তি টিক্কা খানের পা ধরে সালাম করে বলেছিল ‘আমি আপনার সঙ্গে আছি’, সে ছিল গোলাম আজম।”
তিনি দাবি করেন, ইতিহাসের নথি ও ছবিতেই গোলাম আজমের এই ভূমিকার প্রমাণ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধকে একক কৃতিত্ব হিসেবে উপস্থাপনের সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেন, “১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এককভাবে জয়ী হয়। নৌকা প্রতীকে তারা ৭১ শতাংশ ভোট পায়। অন্যদিকে জামায়াত পায় মাত্র ৬ শতাংশ এবং মুসলিম লীগ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে মোট ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোট পায়।
১৬২টি আসনে জয়ের পর আওয়ামী লীগ যদি নিজেদের কৃতিত্ব বলে, তাতে দোষ কী? তবে শেখ মুজিব তখনও মওলানা ভাসানীর কাছে গিয়ে সালাম করে বলেছিলেন—‘হুজুর, আমার সঙ্গে থাকেন।’ আর সেই ভাসানীই প্রথম বলেছিলেন, ‘মুজিব, তুমি স্বাধীনতা ঘোষণা করো, আমি তোমার সঙ্গে আছি।’”
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে যদি জনগণের আস্থা অর্জন করতে হয়, তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ বিকল্প শক্তিকে সমর্থন করবে এবং বিএনপির জন্য রাজনৈতিক পরিসর সংকীর্ণ হয়ে যাবে।