প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির বাইরে নির্বাচন হলে দেশে আবারও ফ্যাসিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, “পিআর মানে সর্বজনীন, সর্ব আদর্শ ও সর্ব মতের সংসদ। বিএনপিও বলে তারা সর্বজনীন সংসদ চায়। তাহলে পিআর সিস্টেমে নির্বাচন করতে আপত্তি কোথায়?”
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লালবাগ স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে আশি হাজার আলেম শহীদ হয়েছিলেন। ব্রিটিশরা পালানোর সময় বৈষম্য দূর করার জন্য আলাদা দেশ চেয়েছিলাম। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ হলেও বৈষম্য দূর হয়নি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চপদে পরিবর্তন হয়, অথচ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ থেকে যায়। “যেই দল ক্ষমতায় এসেছে, তারা সরকারি চাকরি, সুযোগ-সুবিধা দখল করেছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা হয়েছে নিপীড়িত। ভেজালমুক্ত জায়গা এখন দেশে নেই,” তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “বিসিএস ক্যাডার শুরুতে মাত্র ২২-৩৫ হাজার টাকা বেতন পায়, অথচ দেশের সম্পদ লুটে নেয়া হয় রাজনৈতিক ক্ষমতাধরদের দ্বারা। ফাঁসির আসামীরাও বুক ফুলিয়ে রাস্তায় হাঁটে, আর বিরোধীদের খুঁজে বেড়ায় পুলিশ।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুর রহমান বলেন, “আমাদের দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজিতে জড়িত হয়নি। করোনার সময় আমরা লাশ দাফন করেছি, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এবার পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হতে পারলে রাষ্ট্রের বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।