“আমরা নির্বাচন ছাড়া কিছুতেই বিশ্বাস করি না”
জাতীয় রাজনীতির এক নতুন প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য দিয়ে আবারও শক্ত বার্তা দিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৬ আগস্ট) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই সম্মেলন মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও আসন্ন নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতেই ডাকা হয়েছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। দেশের মানুষ এখন নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ দেখছে না।”
তিনি আরও বলেন,
“নতুন প্রজন্ম ব্যালট চেনে না, ভোট দেয়নি—তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।”
বিগত ১৬ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক দুঃশাসনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ফখরুল বলেন,
“এই সরকার তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছে, অর্থনীতিকে লুটপাটের খেলায় পরিণত করেছে এবং বিচার ব্যবস্থাকে দলীয় বন্দিত্বে পরিণত করেছে। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে, তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের সাজা দিয়ে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু দমন-পীড়নের সেই চক্রকে ভেঙে জনগণই জবাব দিয়েছে।”
তিনি বলেন,
“২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সেই অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণই ছিল হাসিনা সরকারের পতনের রূপান্তর। সেখান থেকেই জাতি নতুন করে জেগে উঠেছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন—এই বাস্তবতা আজ ইতিহাস।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, সেটিকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপি বলেছে,
“৫ আগস্ট ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ রাজনৈতিক ঐকমত্যের পথ উন্মুক্ত করেছে। আমরা এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানাই। এটিই হবে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা বিন্দু।”
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন—এই সংগ্রাম কোনো একটি দলের নয়, এটি পুরো জাতির, ছাত্র-জনতার, শ্রমিক-কৃষকের।
“যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, গুম হয়েছেন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন—তাদের প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাই।”
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে আরও উঠে আসে,
“প্রফেসর ইউনূস এখন পর্যন্ত যা যা করেছেন, তাতে প্রমাণিত হয়েছে—তিনি একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচনের জন্যই কাজ করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও তিনি এমন কিছু করবেন না, যাতে সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”
এই বক্তব্য বিএনপির অবস্থানকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে—তারা রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদ’ পতনের পর আজ এখন সংলাপ, শান্তি এবং ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের পথে আছে। এবং সেই লড়াইয়ের চূড়ান্ত গন্তব্য শুধুই একটি অবাধ নির্বাচন।