নেত্রকোনার প্রতিনিধি :
নেত্রকোনায় চাঞ্চল্যকর শিশু পান্নাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদন্ডা দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও একলক্ষ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ডক্টর এ কে এম এমদাদুল হক।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, কাজল চন্দ্র সরকারের ছেলে অপু চন্দ্র সরকার (৩১), আব্দুর গফুরের ছেলে মামুন (২৯) ও মৃত মিয়াচানের ছেলে সুলতান (৩৪)। তারা নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা এলাকার বাসিন্দা।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল এর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুরুল কবির রুবেল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে আসামী পক্ষের আইনজীবী পীযুষ চন্দ্র সরকার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আসামিরা ন্যায় বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতের আপিল করবেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঠাকুরাকোনা রেললাইনের পাশে থাকা রিকশা চালক লালচান মিয়ার ১৪ বছরের শিশু কন্যা পান্নাকে ডেকে নিয়ে যায় তারা। পরে পাশের সুলতানের মাছের ফিশারিতে একটি ঘরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তারা।
পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ফিশারি থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। অপমান সইতে না পেরে পরদিন সকালে শিশু পান্না আত্মহত্যা করে। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়। পরে দাফন করতে বাধ্য হয়।
এরপর থেকে আসামিরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে আসে। পান্নার মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে ১০ সেপ্টেম্বর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে আসামি কৌশিক ও মামুনকে পুলিশ ১২ সেপ্টেম্বর আটক করে। ঘটনার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মামলাটি তিন নম্বর আসামী খামার মালিক সুলতান মিয়াকেও আটক করে পুলিশ।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালে ৫ এপ্রিল পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ ৮ বছর শুনানি শেষে ১৬ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামীদের উপস্থিতিতে বিচারক তাদেরকে মৃত্যুদন্ডের রায় দেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আসামিদের উপযুক্ত সাজা প্রদানের জন্য রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী, পান্নার মা ও নারীবাদী সংগঠন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মানবাধিকার কর্মী কোহিনূর বেগম বলেন, পান্না ধর্ষণের ঘটনাটি একটি পৈশাচিক কান্ড ছিল। বিজ্ঞ আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় পরিবারটি ন্যায় বিচার পেয়েছে।
পান্নার মা আলপনা আক্তার বলেন, পান্নার ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের মৃত্যুদণ্ড রায়ে হয়েছে। তবে আমি চাই সরকার যেন দ্রুত এ রায় কার্যকর করে। তাহলে আমি এবং আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।