নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এক আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রায়পুরা পৌর শহরের হাসিমপুর এলাকার জান্নাতুল বুশরা বালিকা আবাসিক মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক জুনাইদ (৩৫) ঘটনার জানাজানি হবার পর থেকে পালাতক রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নে। যে কক্ষে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ, সেই কক্ষের পাশেই তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামের বাসিন্দা পারুল বেগম তার মেয়ে লামিয়া আক্তারকে প্রায় দুই মাস আগে হাশিমপুর এলাকার জান্নাতুল বুশরা বালিকা আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি করান। অভিযুক্ত শিক্ষক জুনাঈদ (৩৫) একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন। পরদিন সকালে অসুস্থতা অনুভব করলে
শিশুটিকে তার খালার বাসায় নেওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জানায়।
পরে ভুক্তভোগীর মা-বাবা ঢাকায় থেকে ফিরে এসে মেয়ের কাছ থেকে একই অভিযোগ পান। পরিবারের দাবি, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের চিহ্ন দেখা গেছে। ২৫ এপ্রিল তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে এলাকাবাসী ঐ শিক্ষককে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। এলাকার সকল মহলে এ নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসব ঘৃন্য কর্মকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি নিশ্চিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ মানুষের আলোচনায় সবার একই দাবী।
রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান জানান, অভিযোগ দায়েরের পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় পুলিশ প্রশাসন। সংবাদ প্রাপ্তির পর নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুকের নির্দেশনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য রায়পুরা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।