সৌদি আরবে ‘নিরাপদ বিশ্বকাপ’—সমকামী দর্শকদের জন্য দিল নজিরবিহীন আশ্বাস! ইতিহাস বদলের পথে রক্ষণশীল রাজতন্ত্র?
২০২৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য সৌদি আরব এখন প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে। তবে এবার খেলার মাঠের বাইরেও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্ষণশীল দেশটি।
ইংল্যান্ডের ফুটবল সংস্থা (Football Association – FA) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি সরকার LGBTQ+—অর্থাৎ সমকামী, উভকামী ও ট্রান্সজেন্ডার দর্শকদের জন্য ‘নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমনকি তারা লিখিতভাবে এই নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও দিয়েছে আয়োজক কমিটিকে।
ইংলিশ FA চেয়ারম্যান মার্ক বুলিংহাম বলেন, “সৌদি আরব আমাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছে। LGBTQ+ সম্প্রদায়ের দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা যে উদ্বেগ জানিয়েছিলাম, তার সুস্পষ্ট এবং লিখিত জবাব আমরা পেয়েছি। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা সব ধরনের মানুষ—ধর্ম, জাতি বা যৌন পরিচয় নির্বিশেষে—একইভাবে নিরাপদ থাকবে।”
এই প্রতিশ্রুতি আসছে এমন একটি দেশের পক্ষ থেকে, যেখানে এখনো সমকামিতাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। সৌদি আরবের আইনে সমকামিতার শাস্তি হতে পারে জেল, বেত্রাঘাত বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত।
তবুও, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে নিজের ভাবমূর্তি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল হিসেবে তুলে ধরতে চায় সৌদি সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন—এটি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ রূপকল্পের অংশ, যার মাধ্যমে দেশটি বৈশ্বিক বিনিয়োগ, পর্যটন এবং কূটনীতির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চায়।
এদিকে ফিফাও জানিয়েছে, “বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী এবং দর্শকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা ফিফার অগ্রাধিকার।” তারা আরও বলেছে, আয়োজক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের দায়িত্ব হলো সব দর্শকের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে—লিখিত প্রতিশ্রুতিই যথেষ্ট নয়, বাস্তবতা দেখতে হবে মাঠে। সৌদি কতটা উদারতা দেখাবে, তা বোঝা যাবে বিশ্বকাপের সময়।একদিকে রক্ষণশীল ধর্মীয় আইন, অন্যদিকে বিশ্বমানের খেলাধুলার আধুনিক আয়োজন।
এই দুইয়ের সংঘাতে সৌদি আরব যে এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে চায়, তা স্পষ্ট। LGBTQ+ দর্শকদের জন্য দেওয়া এই ‘নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি’ তাই কেবল এক ঘোষণাই নয়—বরং এক ইতিহাস বদলের ইঙ্গিত।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?