আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়া সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “তাদের আর রাজনৈতিক দলের তকমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” রোববার (১১ মে) এক আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমরা শাহাবাগে কেন যাবো? আমাদের দাবি আমরা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে অনেক আগেই লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি। বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও অনুষ্ঠানে বারবার বলেছি। আমরা আমাদের বক্তব্য বহুবার পুনরাবৃত্তি করেছি।
আওয়ামী লীগকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যদি বিষয়টি সময়মতো আমলে নেওয়া হতো, তাহলে আজ সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।”
আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বের বহু দেশে দেখা গেছে—যেসব দল ফ্যাসিবাদী বা মানবতাবিরোধী চরিত্র ধারণ করে, তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জার্মানি ও অন্যান্য দেশ তার উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের বিচারিক উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াটা জরুরি ছিল। আমরা সবসময় দেশের স্বার্থে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসেছি এবং আগামীতেও থাকব।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। এজন্য আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দ্রুত একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছি। তা না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দ্বন্দ্ব আরও বাড়বে।”
তিনি আরও জানান, সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই আইন কার্যকর করতে হলে কিছু সংশোধনী আনতে হবে—যাতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা নিশ্চিত করা যায়।
সালাহউদ্দিনের ভাষায়, “আওয়ামী লীগের ডিএনএতেই গণতন্ত্র নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে যে ফ্যাসিবাদ ও নিপীড়নের রাজনীতি করেছে, তাতে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।”