দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অর্থ সংগ্রহ ও অনুদান গ্রহণ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এক বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন, “বিএনপি কোনো অনুদান নিলে তাকে চাঁদা বলা হয়, আর অন্যদলীয় নেতারা নিলে সেটাকে হাদিয়া বলা হয়!”
মির্জা আব্বাসের মতে, বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের অনুদান বা সহায়তা সংগ্রহ করলেই সেটিকে ‘চাঁদাবাজি’ বলা হয়। অথচ অন্যরা যখন একই কাজ করেন, তখন সেটিকে ‘হাদিয়া’ বা উপহার হিসেবে প্রচার করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই বৈষম্য শুধু প্রচারণার অংশ নয়, বরং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণেও এটি প্রতিফলিত হয়।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, “বর্তমান সরকার দেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অনুদান নিচ্ছে, কিন্তু সেটাকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। পক্ষান্তরে বিএনপির কেউ যদি তহবিল সংগ্রহ করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।”
বিএনপি নেতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা একে সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, অপরপক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপি অতীতে অবৈধ চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং জনগণের কাছে সেটি প্রমাণিত।
সাধারণ জনগণের একাংশ মনে করছে, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহ নতুন কিছু নয়। তবে সরকার ও বিরোধী দলের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অনেকে বলছেন, ‘হাদিয়া’ ও ‘চাঁদা’ নামে প্রচারণার পার্থক্য রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
মির্জা আব্বাসের বক্তব্য রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, অর্থ সংগ্রহ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পার্থক্য টানার চেষ্টা চলছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক দলগুলো স্বচ্ছতা বজায় রেখে অর্থ সংগ্রহ করবে এবং একই মানদণ্ডে সকলকে মূল্যায়ন করা হবে।