বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

ফরাসি দার্শনিকের ভ্রান্তি: বিবাহ ও যৌনতার প্রকৃত অর্থ

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উক্তি বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে, যা অনেকেই তাদের ওয়ালে শেয়ার করছেন। উক্তিটি হলো, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ। এই উক্তিটি বিশেষত তাদের কাছে প্রভাব ফেলেছে যারা অবাধ যৌনতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে মনে করেন না। তবে এই ধারণাটি কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? আসুন, কুরআন […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:৫২

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উক্তি বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে, যা অনেকেই তাদের ওয়ালে শেয়ার করছেন। উক্তিটি হলো, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ।

এই উক্তিটি বিশেষত তাদের কাছে প্রভাব ফেলেছে যারা অবাধ যৌনতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে মনে করেন না। তবে এই ধারণাটি কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত? আসুন, কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হলো।

উক্তিটির উৎপত্তি ও সত্যতা

ধারণা করা হয়, এই উক্তিটি প্রথমবার এসেছে ফ্রঁসোয়া-মারি আরুয়ের (১৬৯৪-১৭৭৮), যিনি ফরাসি দার্শনিক ও লেখক ভলতেয়ার ছদ্মনামেই নামেই অধিক পরিচিত। উক্তিটি মূলত সমাজে অবাধ যৌনতা ও বিবাহের বিরুদ্ধে এক ধরনের বার্তা হিসেবে প্রচারিত হয়ে থাকে। তবে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল ধারণা।

বিবাহের প্রথার প্রাচীনতা

মানব সভ্যতার শুরুর দিনগুলো থেকেই বিবাহ প্রথা বিদ্যমান ছিল। প্রথম মানব, আদম আ.-এর সময় থেকেই এই প্রথার সূচনা হয়েছিল। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আদম আ. ও তাঁর স্ত্রী হাওয়া আ. একে অপরের জন্য পরিপূরক। সুরা বাকরাহর ৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, আর আমি বললাম, হে আদম তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তা থেকে আহার করো স্বাচ্ছন্দ্যে, তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী এবং এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

এ আয়াতে স্পষ্টতই বলা হয়েছে যে, আদম আ. ও হাওয়া আ. একে অপরের সঙ্গী হিসেবে সৃষ্টি হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যা আল্লাহর বিধান অনুসারে ছিল।

আদম আ. ও হাওয়া আ.-এর সম্পর্ক

তাফসিরে উল্লেখ রয়েছে যে, আদম আ. -এর সৃষ্টি হওয়ার পর তাঁর বাঁ পাঁজর থেকে হাওয়া আ. -কে সৃষ্টি করা হয়। ইবনে কাসির রাহ. তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, আদম আ. যখন ঘুমে ছিলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর শরীর থেকে একটি হাড় নিয়ে সেটির মাধ্যমে হাওয়া আ. -কে সৃষ্টি করেন। পরে, আদম আ. যখন ঘুম থেকে ওঠেন, তিনি হাওয়াকে তাঁর সঙ্গী হিসেবে দেখতে পান এবং তাঁকে স্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করেন।

কুরআনে আরও বলা হয়েছে, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। (সুরা নিসা, আয়াত: ১)

এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা প্রথম মানব আদম আ.-কে সৃষ্টি করার পর তাঁর সঙ্গী হিসেবে হাওয়া আ.-কে সৃষ্টি করেছেন, যা বিবাহের প্রাথমিক প্রমাণ।

বিবাহের বিধান ও পদ্ধতি

আলেমরা বলেন, আদম আ. ও হাওয়া আ. -এর সম্পর্ক ছিল আদর্শ বিবাহের সূচনা। তবে, তাঁদের বংশধরদের জন্য এক নতুন বিধানও আরোপ করা হয়েছিল। ইবনে কাসির রহ. তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, আদম আ. -এর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান ছিল, যেখানে এক গর্ভে জন্ম নেয়া পুত্র ও কন্যাকে সহোদর হিসেবেই গণ্য করা হয়েছিল, এবং তাদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। তবে, পরবর্তী গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া পুত্র ও কন্যার মধ্যে বিবাহ বৈধ ছিল। (ইবনে কাসির)

উক্তির ভুল ব্যাখ্যা

যারা বলেন, ঈশ্বর যৌনতা সৃষ্টি করেছেন আর যাজকরা সৃষ্টি করেছেন বিবাহ, তারা ভুলভাবে বুঝে থাকেন যে, বিবাহ একটি মানবিক সৃষ্ট কৃতিত্ব, যা সমাজে কিছু লোক (যাজকরা) প্রতিষ্ঠা করেছেন। অথচ কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বিবাহ একটি মহান বিধান, যা আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানব সমাজের প্রথম দিক থেকেই বিবাহের প্রথা ছিল এবং এটি সমাজে একটি সুশৃঙ্খল সম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সুতরাং, উক্তিটি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কুরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, বিবাহ একটি আল্লাহর দেয়া বিধান, যা মানুষের সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে অপরিহার্য। তাই এই ধরনের মনগড়া উক্তি বিশ্বাস করা কিংবা প্রচার করা ভুল।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই ধরনের ভুল মতাদর্শ থেকে বেচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।