আজ (২১শে এপ্রিল) পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এ্যানিমাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃঅন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের মতামত উপেক্ষা করে ভয়ভীতি, হুমকি ও মানসিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জোরপূর্বক কম্বাইন্ড ডিগ্রি চাপিয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাঠ করেন ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিসিপ্লিনের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদুল আবেদিন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আরিফুল ইসলাম, আফিফা হোসেন অনি, ফারিয়া আক্তার, শহিদুল ইসলাম, আল শাহরিয়ার হাসান, আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।
এসময় শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৫ সালে ডিভিএম ও এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে নতুন কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু করা হয়, যা তারা শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর স্ব স্ব ডিগ্রি বহাল রেখে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখার রায় পাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
তাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুমকি ও বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে একাডেমিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। জানা যায়, শিক্ষার্থীরা গত ৪ মার্চ থেকে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করছেন এবং এপ্রিলের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে তালাবদ্ধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম লেভেল-৪, সেমিস্টারে-২ এর শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডিভিএম ডিগ্রি পুনর্বহালের দাবীতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় অথোরিটি ও ডিভিএম শিক্ষকদের বারবার অবিহিত করার পরেও এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো আশ্বাস পাইনি। তাই আমরা একটা সময় একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ করতে বাধ্য হই।”
তিনি আরো বলেন, “দুঃখজনকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা অজুহাত দেখিয়ে আমাদের যৌক্তিক দাবিকে দমন করার চেষ্টা করছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষার্থীদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরাতে পারবে না।
আমাদের দাবি মেনে না নিলে আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। আমরা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য আন্দোলনে বিশ্বাসী, তবে প্রয়োজন হলে তা আরও শক্তিশালী রূপ নেবে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।