সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন, যাদের সবার বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। নিহতদের মধ্যে চারজনই বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের ভাইগর গ্রামের বাসিন্দা, বাকি তিনজন পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের বাসিন্দা। যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন—ভাইগর এলাকার আব্দুল রশিদ, পলাশ হোসেনের ছেলে সুমন (২১), ছইফুদ্দিনের ছেলে বিষ্ণু (৩৫) এবং মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০)। এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০) এবং ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫) একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় একটি চালবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয় এবং আরও অন্তত ছয়জন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সোমবার সকালেই বিরামপুর উপজেলার নিজ গ্রাম থেকে কাজের উদ্দেশ্যে কুমিল্লার দিকে রওনা দেন। পরে বিরামপুর শহরে নবাবগঞ্জ উপজেলার আরও তিনজন তাদের সঙ্গে যোগ দেন। সেখান থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি চালবাহী ট্রাকে তারা যাত্রা শুরু করেন। গভীর রাতে পথিমধ্যে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
স্বজন হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নিহতদের পরিবার। সুমনের বাবা পলাশ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সুমন আমার বড় ছেলে ছিল। তার উপার্জনেই আমাদের সংসার চলত। এখন আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি।”
একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাসেম বলেন, “একদিনে আমাদের গ্রামের চারজনের মৃত্যু—এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। পুরো গ্রামজুড়ে শোকের মাতম চলছে।”
এদিকে, স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা শিশির আক্তার জানান, “কয়েকদিন আগেই কাজ শেষে বাড়ি ফিরেছিল। আবার কুমিল্লায় যাওয়ার সময় আমি বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু সে কথা শোনেনি।”
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।