যশোরের অভয়নগরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ইকবাল হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ খালিদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান ইউসুফ, বাঘুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি শেখ মাসুদ রানা ও সমর্থক শরিফুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে বিএনপির সমর্থক আশিক ও জামায়াত সমর্থক সাত্তারের মধ্যে মারামারি হয়। এতে জামায়াত সমর্থক সাত্তার আহত হন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শের আলীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। আসরের নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান ইউসুফ বলেন, খালিদ ও ইকবাল ভাইকে কুপিয়ে তাদের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। আমাকে ও জাকির ভাইকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এছাড়া মিছিলে থাকা অন্তত ২০ জন আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে তারা দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের ওপর হামলা চালায়।
যশোর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি শেখ মাসুদ রানা বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালান। এখন উলটো আমাদের ওপর তারা দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছেন। তারা দেশীয় অস্ত্রসহ আমাকে, ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরসহ ২০–৩০ জনকে আঘাত করে আহত করেছেন।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভাটপাড়া বাজারে পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।