সজিব রেজা , দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, দেশকে মরুকরণের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সারাদেশে ব্যাপক খাল ও নদী খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর খাল পরিদর্শনের সময় তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পানি সংরক্ষণ বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন আরও শক্তিশালী করতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। খুব শিগগিরই এ কর্মসূচির কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, খাল-নদী খননের মাধ্যমে একদিকে যেমন পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মরুকরণের সম্ভাবনাও কমবে।
তিনি অতীতের খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের কৃষি ও রপ্তানি খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় কৃষিবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে দল ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে। পাশাপাশি গঙ্গা ও পদ্মা নদীসংক্রান্ত চুক্তি ইস্যুতেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কাহারোল উপজেলার বলরামপুর খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে, যা স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।