রবিউল ইসলাম , শিবগঞ্জ প্রতিনিধি
বগুড়ার শিবগঞ্জে এ বছর আলুর ফলন হয়েছে আশানুরূপ। মাঠজুড়ে আলু তোলার ব্যস্ততা, কৃষকের ঘরে ঘরে বস্তাভর্তি ফসল। কিন্তু সেই ফসলই এখন হয়ে উঠেছে দুশ্চিন্তার কারণ। বাজারে আলুর দাম নেমে এসেছে প্রতি মন মাত্র ১৮০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, উল্টো লোকসানের বোঝা বাড়ছে দিনদিন।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে সার কিনতে হয়েছে নির্ধারিত ১২০০ টাকার বদলে ১৮০০ টাকায়। পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ, জমি প্রস্তুত, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। অনেকেই এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। এখন কম দামে আলু বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধ নিয়েও পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
স্থানীয় কুড়াহার গ্রামের কৃষক আঃ হান্নান বলেন, “আমরা অনেক আশা নিয়ে চাষ করেছিলাম। কিন্তু যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচই উঠছে না।”
বড়বেলঘড়িয়া গ্রামের কৃষক আজিজুল বলেন, “এরকম আলুর দাম থাকলে আমাদের মরা ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে।”
কৃষকদের দাবি, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং কৃষকবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
চাষিরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে লোকসান গুনতে থাকলে আগামী মৌসুমে অনেকেই আলু চাষ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন। কৃষকের মুখে হাসি ফেরাতে এখনই প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।