বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে

আবু তাহের, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগে ১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ১ পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে ২ পদে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিভাগটিতে ১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। যেখানে […]

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০২৫, ২০:৪৫

আবু তাহের, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগে ১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ১ পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে ২ পদে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিভাগটিতে ১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। যেখানে লিখিত পরীক্ষার জন্য আমন্ত্রণ পান একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদের বিপরীতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ২ সহকারী অধ্যাপক। তারা হলেন- মো. মামুনুর রশিদ ও শিমলিন জাহান খানম। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় ৩য় প্রার্থী হিসেবে আমন্ত্রণ পান মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরী নামের আরেক প্রার্থী।

পরে ১২ আগস্ট উক্ত ৩ প্রার্থীর মাঝেই হয় লিখিত পরীক্ষা এবং উত্তীর্ণ হন সবাই। একই দিনে অনুষ্ঠিত বাছাই বোর্ডে সাক্ষাৎকার দিয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন শিমলিন জাহান খানম। অন্যদিকে ২য় অবস্থানে ছিলেন মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরী।

তবে এরপরই ঘটে বিপত্তি। উক্ত পদের বাছাই বোর্ডের কার্যবিবরণীতে যুক্ত করা হয় মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরীকে ভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশও। মূলত শিমলিন জাহান খানমের সহকারী অধ্যাপক পদে স্থায়ী নিয়োগ হবার পর তার সহযোগী অধ্যাপক পদটি শূন্য হবে বলে আগেই সেই পদে অস্থায়ী সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সুপারিশ করা হয় মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরীকে;

যা অনুমোদন পায় ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯তম সিন্ডিকেটে। এরপর ৩১ আগস্ট নিজ পদে যোগদান করেন শিমলিন খানম এবং ১২ অক্টোবর যোগদান করেন রকি খান। এরপরেই প্রশ্ন উঠেছে নিয়োগটির স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও নিয়মের বৈধতা নিয়ে।

নিয়োগটিতে শূন্যপদে কোন প্রকার বিজ্ঞাপন প্রচার না করে সহযোগী অধ্যাপক পদে সরাসরি অস্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করায় পদটিতে যথাযথ প্রতিযোগিতা হয়নি, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের, “প্রজাতন্ত্রের যেকোনো নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ” ধারাটিও লঙ্ঘন হয়।

এই নিয়োগের বাছাই বোর্ডে সভাপতি হিসেবে উপাচার্য ও সদস্য হিসেবে ট্রেজারার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, সিন্ডিকেটে পাশ হওয়ার পর যেই পদ শূন্য হবে, সেই পদে আগে থেকেই একজনকে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়া, অপ্রাসঙ্গিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা যায়। শূন্যপদে বিজ্ঞাপন দিলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আরও যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যেতো।

অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বাছাই বোর্ড কিভাবে সহযোগী অধ্যাপক পদের বিপরীতে অস্থায়ী সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের সুপারিশ করে তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এ বিষয়ে ইউজিসির অনুমোদন রয়েছে কি না জানতে চাইলে তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেকশন বোর্ডের অনেককিছু বিষয় থাকে। এখন বাইরে আছি, পরে কথা বলবো।’

নিয়োগটির বৈধতা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিয়োগটি বাছাইবোর্ড কর্তৃক সুপারিশ করা হয় এবং পরবর্তীতে সিন্ডিকেটেও অনুমোদিত হয়। যেহেতু সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম, তাই সেখান থেকে অনুমোদন হলে সেই নিয়োগকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। তবে এটি আদর্শ পদ্ধতি নয়।

নিয়োগটির বিষয়ে বাছাই বোর্ডের সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাছাই বোর্ড যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সিলেকশন বোর্ড যখন বসেছে, সবাই মনে করেছে একজন পটেনশিয়াল ক্যান্ডিডেট পাওয়া গেছে।

তিনি অস্ট্রেলিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছেন, এরকম ব্রাইট ক্যান্ডিডেট সচরাচর পাওয়া যায় না, তাই সিলেকশন বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেছে। সিন্ডিকেটেও বিষয়টি এভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং অনুমোদন হয়েছে। এমন যদি হয় হার্ভার্ড থেকে কেউ এসেছে, তাকে চাইলেও সিন্ডিকেট সরাসরি নিয়োগ দিতে পারে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান বলেন, বিজ্ঞাপনে যদি একটি পদ উল্লেখ থাকে, তাহলে একজনকেই নিয়োগ দিতে হবে। বিজ্ঞাপনের পদের সংখ্যার বাইরে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

নিয়োগটির বৈধতা বিষয়ে ইউজিসির এক সদস্য বলেন, অভ্যন্তরীণ প্রার্থী যদি নিয়োগ পান, তাহলে তার শূন্য পদে একই সিলেকশন বোর্ডে আরেকজনকে সুপারিশ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি আইনসম্মত নয় এবং সম্পূর্ণ অবৈধ। সিন্ডিকেটে অনুমোদন হলেও ইউজিসির কাছে অভিযোগ এলে এই নিয়োগ বাতিল হবে। কারণ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ১ টি পদের চাহিদা উল্লেখ ছিলো। যদি শূন্য ঐ পদে কাউকে নিয়োগ দিতে হয়, তবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যথাযথ নিয়ম মেনেই নিয়োগ দিতে হবে।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।