বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ ছাত্রদল

ক্যাম্পাস মানেই স্বপ্ন, উচ্ছ্বাস, আর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার মঞ্চ।কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় যখন অন্যায়, বঞ্চনা আর অনিয়ম—তখনই প্রয়োজন হয় এমন এক চেতনার, যারা শিক্ষার্থীর হয়ে কথা বলবে,অধিকার আদায়ে পাশে দাঁড়াবে।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখার সভাপতি রাকিবুল হাসান চাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বললেন—তানজিল কাজী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিশ্বাস […]

শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ ছাত্রদল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:১৫

ক্যাম্পাস মানেই স্বপ্ন, উচ্ছ্বাস, আর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার মঞ্চ।কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় যখন অন্যায়, বঞ্চনা আর অনিয়ম—তখনই প্রয়োজন হয় এমন এক চেতনার, যারা শিক্ষার্থীর হয়ে কথা বলবে,অধিকার আদায়ে পাশে দাঁড়াবে।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখার সভাপতি রাকিবুল হাসান চাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বললেন—তানজিল কাজী।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিশ্বাস করে—ছাত্র রাজনীতি মানে ক্ষমতার লড়াই নয়,অধিকার আর মর্যাদার রাজনীতি।

আমরা চাই এমন এক পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী সমানভাবে নিরাপদ, সম্মানিত এবং শোনা যায়।

 সচেতনতার প্রতীক ছাত্রদল

আজকের বাংলাদেশে “ছাত্র রাজনীতি” শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভয়, দখল, র‍্যাগিং কিংবা সন্ত্রাসের ছবি ভেসে ওঠে।

কিন্তু ছাত্রদল চায় এই ধারণা বদলে দিতে।

আমাদের বিশ্বাস—ছাত্র রাজনীতি মানে শিক্ষার্থীর সমস্যার সমাধান, ন্যায়বিচারের সংগ্রাম, এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের পাঠশালা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা

একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি প্রতিদিন দেখি—আমাদের সমস্যাগুলো কত বাস্তব আর কত অবহেলিত।

যাতায়াতের ঝামেলা, অতিরিক্ত রিটেক ফি, সীমিত ক্লাসরুম, অপ্রতুল স্কলারশিপ—সব মিলে শিক্ষাজীবন অনেক সময় হয়ে ওঠে কষ্টের।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও, বাস্তবতা ভিন্ন।আর সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই ছাত্রদল এগিয়ে এসেছে—শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর হয়ে।

শিক্ষার্থীর দাবি, ছাত্রদলের অঙ্গীকার

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) শাখা ছাত্রদল ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে।আমাদের আহ্বান—ক্যাম্পাস যেন পড়াশোনার জায়গা পাশাপাশি মানবিক পরিবেশের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।আমরা চাই নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা চিকিৎসক,

পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও কমনরুম, স্বল্পমূল্যে পরিবহন সেবা, মেধাভিত্তিক ওয়েভার এবং আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ফি মওকুফ।এই দাবিগুলো রাজনৈতিক নয়,মানবিক।আমাদের এই দাবি গুলো প্রতিটি দাবিই একজন শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন থেকে উঠে এসেছে।

কোন প্রতিপক্ষ নয়,আমরা শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি

ছাত্রদলের রাজনীতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ও শিক্ষার্থীদের জন্য।আমরা চাই প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা।কারণ সমাধান আসে আলোচনার মধ্য দিয়ে, হিংসা দিয়ে নয়।ছাত্রদল বিশ্বাস করে—শিক্ষার্থীর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা মানেই একধরনের নৈতিক দায়িত্ব পালন।

ছাত্রদল তাই একাডেমিক সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সম্মানজনক পরিবেশের পক্ষেও কথা বলে যাচ্ছে।

 শিক্ষার্থীদের ভাবনা: আমরা কেমন রাজনীতি চাই

ডিআইইউ-এর অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে একটা বিষয়ই বারবার উঠে আসে-আমরা এমন রাজনীতি চাই যা ভয় নয়, আমাদের ভালোবাসা শেখায়।যেখানে সমস্যা নিয়ে কথা বলা যাবে, সমাধান খোঁজা যাবে, কাউকে ভয় না পেয়ে নিজের মত প্রকাশ করা যাবে।

এই সকল শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে,ছাত্রদলের মতো সংগঠন থাকলে তাদের কথাগুলো প্রশাসনের কাছে পৌঁছাতে সহজ হয়।আমাদের প্রত্যাশা—একটি ক্যাম্পাস যেখানে ক্লাসরুমে আলোয় আলোকিত থাকবে, ক্যানটিনে স্বাস্থ্যকর খাবার থাকবে, আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।

নেতৃত্ব গঠনের রাজনীতি

ছাত্রদল মনে করে, রাজনীতি মানে শুধু প্রতিপক্ষ নয়—এটি নেতৃত্ব শেখার মাধ্যম।

যেখানে একজন শিক্ষার্থী নিজের দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি ও সমাজবোধ দিয়ে বড় হয়ে ওঠে।ছাত্রদলের মূল বিশ্বাস—আমাদের রাজনীতি প্রথমে শিক্ষার্থীর জন্য, তারপর দেশ ও দলের জন্য।এই দর্শনই আমাদের আলাদা করে তোলে।আমরা চাই বিতর্কহীন, দায়িত্বশীল, সংস্কারমুখী নেতৃত্বের রাজনীতি,যেখানে যুক্তি জেতে, সহিংসতা নয়।

অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে ছাত্র রাজনীতি

ছাত্র রাজনীতি মানে প্রতিশোধ নয়, প্রতিশ্রুতি বদ্ধ ।এই প্রতিশ্রুতি শিক্ষার্থীর অধিকার, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং স্বপ্নের।আজ যখন একনায়কতন্ত্রের ছায়া শিক্ষাঙ্গনে ঘনিয়ে এসেছে, তখন মূল ধারার ছাত্র রাজনীতিই পারে সেই অন্ধকার ভেদ করতে।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে—শিক্ষার্থীর পাশে থেকে, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে।

এক নতুন সূর্যের প্রত্যাশায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রদল

ছাত্র রাজনীতি যদি সঠিক পথে ফিরে আসে, তাহলে আমাদের ক্যাম্পাস হবে আশার জায়গা।সেখানে থাকবে না ভয়, থাকবে যুক্তি; থাকবে আলোচনার সংস্কৃতি, মানবিকতার আবেশ।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চায় সেই নতুন সূর্যের উদয়—যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী গর্ব করে বলতে পারে,আমি শুধু পড়তে আসিনি, ২৪ এর অধিকার রক্ষা করতে এসেছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।