মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

২২ বছর পর প্রকাশ্য রাজনীতিতে জাকির খান

মোঃ তানিসা আবেদীন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দুই দশকের পলাতক জীবন ও আড়াই বছরের জেল জীবনের পর আবারও প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলোচিত জাকির খান। হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ৩৩টি মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা ৪৮ বছর বয়সী এই নেতা রোববার (১৩ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২৫, ২৩:২৪

মোঃ তানিসা আবেদীন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

দুই দশকের পলাতক জীবন ও আড়াই বছরের জেল জীবনের পর আবারও প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলোচিত জাকির খান।

হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ৩৩টি মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা ৪৮ বছর বয়সী এই নেতা রোববার (১৩ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পেয়েই বিশাল শোডাউন দিয়ে ঘোষণা দিলেন তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের।

কারগার থেকে মুক্তি পেয়ে জাকির খান বলেন, “তারেক জিয়ার ৩১ দফা দাবি আজকের এই দিনে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওয়াদা করছি যে, আমরা বাস্তবায়ন করবই করব।

আর আমাদের মুসলিম উম্মার জন্য ফিলিস্তিনে যে ঘটনা হচ্ছে, আমরা সবাই মিলে যদি এটার প্রতিবাদ না করি, তাহলে আমরা আর মুসলমানের কাতারে রইলাম না।”

জেলা ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, “আমার শরীরের চামড়া দিয়ে যদি জুতা বানাই দেই, তাহলেও নারায়ণগঞ্জবাসীর ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না।

আমরা রাজনৈতিকভাবে যেভাবে হেয় পতিপন্ন হয়েছি শেখ হাসিনার গভর্নমেন্টের মাধ্যমে, আমাদের নেক্সট জেনারেশন এ ধরনের সম্মুখীন যেন না হয়। এ জন্য আমরা সর্বোচ্চ ও সব ধরনের ভূমিকা রাখব।”

আত্মগোপন ও জেলজীবনের কারণে দীর্ঘদিন সরাসরি রাজনীতিতে না থাকলেও তার কর্মীরা সক্রিয় ছিল সরকারবিরোধী আন্দোলনে। নিয়মিতভাবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে তার কর্মীরা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতো।

এই দীর্ঘসময়েও অনুসারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। কারামুক্তির পর বিশাল শোডাউনে তার প্রমাণ মেলে। রাজনীতিতে তার প্রভাব এখনো কতখানি তা বুঝিয়ে দিয়েছেন একসময়ের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’র তকমা পাওয়া জাকির খান।

২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহরের মাসদাইর এলাকায় নিট পোশাক ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি করা হয় জাকির খানকে।

সাব্বির ছিলেন বিকেএমইএ’র সাবেক সহসভাপতি এবং তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই। এরপর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রথমে থাইল্যান্ড ও পরে অন্যান্য দেশে অবস্থান করেন। ভারতেও ছিলেন দীর্ঘদিন৷ তবে, গ্রেপ্তারের আগে কয়েক বছর বাংলাদেশে যাতায়াত ছিল তার৷

গত ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। দীর্ঘ কারাভোগের পর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সাব্বির হত্যা মামলায় খালাস পান জাকিরসহ সব আসামি।

জাকিরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজীব মণ্ডল জানান, “জাকির খান ৩১টি মামলায় খালাস পেয়েছেন, বাকি দুটি মামলায় জামিনে আছেন। এখন তার বিরুদ্ধে আর কোনো আইনি বাধা নেই।”

যেভাবে উত্থান জাকির খানের 

নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজ থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে আসা জাকির হোসেন ওরফে জাকির খান এক সময় শহরের ‘ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হন। সাব্বির আলম খন্দকার হত্যার পর আসামি হিসেবে নাম এলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

প্রায় দুই দশক পর আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, সাব্বির হত্যা মামলার পর জাকির থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান।

পলাতক থাকা অবস্থাতেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় আদালত সাজা প্রদান করে। এরপর থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি। এক বছর আগে ভারত হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

জাকিরের নামে চারটি হত্যা মামলাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী ও মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন জাকির খান।

দেওভোগ এলাকার অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের পেছনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে শহরের ত্রাস হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী।

“জাকির খানের বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালে সন্ত্রাসমূলক অপরাধ দমন বিশেষ আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় তার ১৭ বছরের সাজা হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে তার সাজা কমে আট বছর হলেও তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে দেশে ও বিদেশে প্রায় দুই দশক পলাতক ছিলেন।”

স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী জানান, ১৯৮৯ সালে জাতীয় পার্টির প্রয়াত সংসদ সদস্য এ কে এম নাসিম ওসমানের হাত ধরে জাকির জাতীয় ছাত্রসমাজে যোগ দেন। ওই নেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে ১৯৯৪ সালে তিনি ছাত্রদলে যোগ দেন।

১৯৯৯ সালে সালে জাকির জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হন। তখন শহরের ডিআইটিতে তাকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কয়েক দফা জেলও খাটেন তিনি।

গত ৫ অগাস্ট শিক্ষার্থী-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে শহরের পরিবহন, ঝুটসহ বিভিন্ন সেক্টরে জাকির খানের অনুসারীদের দখল ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ ওঠে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর একটি পরিবহন দখলকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে জাকির খানের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির আরেকটি পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এই সময় গুলিও চলে।

কারামুক্তির পর সমালোচিত জাকির খান 

কারামুক্তির পরপরই শতাধিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বহর নিয়ে শহরে প্রকাশ্য শোডাউন করেন তিনি। এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। কারাফটকের সামনে সকাল থেকেই ফুলের মালা ও ব্যানার হাতে জড়ো হন জাকিরের শত শত অনুসারী।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শোডাউনে বের হন জাকির খান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পরেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

জাকিরের সঙ্গে এক সময় চরম দ্বন্দ্বে জড়ান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান৷ টানবাজারর যৌন পল্লী উচ্ছেদের পর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে জাকির খানের পরিবার,

যা তাদের দ্বন্দ্ব তীব্র করে৷ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর শামীম ওসমান শহর ছেড়ে পালানোয় জাকির খানের প্রতিদ্বন্দ্বীতার চ্যালেঞ্জ কমেছে৷ তবে জাকির খান তাক সন্ত্রাসী তকমা ঝেড়ে পরিপাটি রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কিনা সে প্রশ্ন জেগেছে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে৷

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।