নাটোরের গুরুদাসপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ ভোক্তারা। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেলও না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে।
একই সময়ে অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে পরিচালিত ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে পুকুর খননে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ব্যবহার হচ্ছে—যা সংকটকে আরও ঘনীভূস্থানীয়রা বলছেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
পাম্প থেকে জারকিনে তেল সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছে একটি চক্র। এতে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত দামে তেল না পেয়ে বাধ্য হচ্ছেন বাড়তি দামে কিনকৃষকদের অভিযোগ, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। ধান কাটা, মাড়াই ও জমি প্রস্তুতের কাজও ধীরগতিতে চলছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিঅন্যদিকে, পুকুর খননে ব্যবহৃত ভেকুগুলোতে প্রতিদিন শত শত লিটার ডিজেল খরচ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি ভেকু দিনে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে এবং প্রতি ঘণ্টায় ১০-১২ লিটার ডিজেল লাগে।
সে হিসেবে প্রতিদিন একটি ভেকুতেই প্রায় ১৫০-১৫৫ লিটার তেলের প্রয়োজন হচলনবিল এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
এ সময় লাইনে থাকা লোকজনের সঙ্গে পাম্প কর্তৃপক্ষের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম ভেঙে জারকিনে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় সরবরাহ বন্ধ করে দেওএকজন বাইকার বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি।
পরে বাধ্য হয়ে বেশি দামে অন্য জায়গা থেকে কিনেছতবে চলনবিল ফিলিং স্টেশনের মালিক খবির উদ্দিন দাবি করেন, “গত পাঁচ দিন ধরে আমাদের পাম্পে কোনো তেল সরবরাহ নেই।
তাই কাউকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”স্থানীয় আরও দুটি এজেন্সি—‘নজরুল এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘হাকিম এন্ড সন্স’-এও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে একই চিত্র দেখা গেছে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে তেল পাচার ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “কৃষকদের ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে ভেকুতে তেল সরবরাহের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”