শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মতো পরিস্থিতি যেন আর কারও ক্ষেত্রে না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, নির্বাচন বানচাল করা কিংবা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ যেন কেউ না পায়, তা সরকারকে কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, ঢাকা-১০ আসনটি ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, কলাবাগান এবং কামরাঙ্গীচরের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা। এই আসনের মানুষের নির্বাচন নিয়ে বড় প্রত্যাশা রয়েছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “এই আসনের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের আলাদা আলাদা সমস্যা রয়েছে। আমরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছি, তাদের সমস্যাগুলো শুনছি এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কাজ করছি। আমি এই নির্বাচনী যাত্রায় এই আসনের জনগণসহ সারা দেশের মানুষের সহযোগিতা চাই।”
নির্বাচনী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরদিনই ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জুলাই আন্দোলনের নেতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, “এই ঘটনার পর এটা পরিষ্কার যে, সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নির্বাচন অবশ্যই সঠিক সময়ে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হতে হবে।”
হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার কিংবা তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সরকারকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জনগণ একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন উপহার পাবে।