ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি–এর মৃত্যুতে আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণে তিনি শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই অমর সৈনিকের অকাল প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে আরও বলেন, মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাকে শহিদ হিসেবে কবুল করেন—এই দোয়া তিনি করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তার মতে, হাদির সাহসী অবস্থান ও সংগ্রামী ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
হাদির মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ পৌঁছায়। বিমানবন্দরে রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
আজ শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর সমাধির পাশে দাফন করা হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা নাইম ইবনে জহির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার আবহ বিরাজ করছে।