বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাউল আবুল সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে “পরোক্ষ সমর্থন” দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও নগরকান্দা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি মির্জা ফখরুলের আচরণে গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর দাবি, বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ধর্ম নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্যের ঘটনায় দেশব্যাপী যখন মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখন বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য ছিল “ভণ্ড বাউলের প্রতি সহানুভূতিপূর্ণ”—যা মুসলিম সমাজকে আঘাত করেছে। তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল ভণ্ড বাউলের পক্ষ নেওয়ায় আমি পদত্যাগ করলাম। আমি তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
তারেক রহমানের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি লিখেছেন—বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দলকে কেউ যেন ইসলামের বিপরীতে দাঁড় করাতে না পারে। তাঁর অভিযোগ, মহাসচিব “কারো খুশি করতে” এমন অবস্থান নিয়েছেন, যা দলীয় নীতি ও মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতির পরিপন্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে তারেক রহমান দ্রুত এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন।
পদত্যাগের ঘোষণার পর গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মুফতি মুস্তাফিজ বলেন, তিনি সম্পূর্ণ সচেতনভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেসবুকে নিজের আইডিতে পোস্ট করে এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানান। তাঁর দাবি—বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য মুসলিম জনতার অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি ওই পদে থাকতে পারেননি।
ধর্মীয় অনুভূতি কেন্দ্র করে বাউল আবুল সরকারের মন্তব্যের ঘটনাটি এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি করে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভেতরেও যে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে, মুফতি মুস্তাফিজুর রহমানের পদত্যাগ সেটির একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।