ক্যাম্পাস মানেই স্বপ্ন, উচ্ছ্বাস, আর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার মঞ্চ।কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় যখন অন্যায়, বঞ্চনা আর অনিয়ম—তখনই প্রয়োজন হয় এমন এক চেতনার, যারা শিক্ষার্থীর হয়ে কথা বলবে,অধিকার আদায়ে পাশে দাঁড়াবে।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখার সভাপতি রাকিবুল হাসান চাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বললেন—তানজিল কাজী।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিশ্বাস করে—ছাত্র রাজনীতি মানে ক্ষমতার লড়াই নয়,অধিকার আর মর্যাদার রাজনীতি।
আমরা চাই এমন এক পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী সমানভাবে নিরাপদ, সম্মানিত এবং শোনা যায়।
সচেতনতার প্রতীক ছাত্রদল
আজকের বাংলাদেশে “ছাত্র রাজনীতি” শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভয়, দখল, র্যাগিং কিংবা সন্ত্রাসের ছবি ভেসে ওঠে।
কিন্তু ছাত্রদল চায় এই ধারণা বদলে দিতে।
আমাদের বিশ্বাস—ছাত্র রাজনীতি মানে শিক্ষার্থীর সমস্যার সমাধান, ন্যায়বিচারের সংগ্রাম, এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের পাঠশালা
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা
একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি প্রতিদিন দেখি—আমাদের সমস্যাগুলো কত বাস্তব আর কত অবহেলিত।
যাতায়াতের ঝামেলা, অতিরিক্ত রিটেক ফি, সীমিত ক্লাসরুম, অপ্রতুল স্কলারশিপ—সব মিলে শিক্ষাজীবন অনেক সময় হয়ে ওঠে কষ্টের।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও, বাস্তবতা ভিন্ন।আর সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই ছাত্রদল এগিয়ে এসেছে—শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর হয়ে।
শিক্ষার্থীর দাবি, ছাত্রদলের অঙ্গীকার
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) শাখা ছাত্রদল ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে।আমাদের আহ্বান—ক্যাম্পাস যেন পড়াশোনার জায়গা পাশাপাশি মানবিক পরিবেশের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।আমরা চাই নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা চিকিৎসক,
পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও কমনরুম, স্বল্পমূল্যে পরিবহন সেবা, মেধাভিত্তিক ওয়েভার এবং আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ফি মওকুফ।এই দাবিগুলো রাজনৈতিক নয়,মানবিক।আমাদের এই দাবি গুলো প্রতিটি দাবিই একজন শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন থেকে উঠে এসেছে।
কোন প্রতিপক্ষ নয়,আমরা শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি
ছাত্রদলের রাজনীতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ও শিক্ষার্থীদের জন্য।আমরা চাই প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা।কারণ সমাধান আসে আলোচনার মধ্য দিয়ে, হিংসা দিয়ে নয়।ছাত্রদল বিশ্বাস করে—শিক্ষার্থীর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা মানেই একধরনের নৈতিক দায়িত্ব পালন।
ছাত্রদল তাই একাডেমিক সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সম্মানজনক পরিবেশের পক্ষেও কথা বলে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভাবনা: আমরা কেমন রাজনীতি চাই
ডিআইইউ-এর অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে একটা বিষয়ই বারবার উঠে আসে-আমরা এমন রাজনীতি চাই যা ভয় নয়, আমাদের ভালোবাসা শেখায়।যেখানে সমস্যা নিয়ে কথা বলা যাবে, সমাধান খোঁজা যাবে, কাউকে ভয় না পেয়ে নিজের মত প্রকাশ করা যাবে।
এই সকল শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে,ছাত্রদলের মতো সংগঠন থাকলে তাদের কথাগুলো প্রশাসনের কাছে পৌঁছাতে সহজ হয়।আমাদের প্রত্যাশা—একটি ক্যাম্পাস যেখানে ক্লাসরুমে আলোয় আলোকিত থাকবে, ক্যানটিনে স্বাস্থ্যকর খাবার থাকবে, আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।
নেতৃত্ব গঠনের রাজনীতি
ছাত্রদল মনে করে, রাজনীতি মানে শুধু প্রতিপক্ষ নয়—এটি নেতৃত্ব শেখার মাধ্যম।
যেখানে একজন শিক্ষার্থী নিজের দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি ও সমাজবোধ দিয়ে বড় হয়ে ওঠে।ছাত্রদলের মূল বিশ্বাস—আমাদের রাজনীতি প্রথমে শিক্ষার্থীর জন্য, তারপর দেশ ও দলের জন্য।এই দর্শনই আমাদের আলাদা করে তোলে।আমরা চাই বিতর্কহীন, দায়িত্বশীল, সংস্কারমুখী নেতৃত্বের রাজনীতি,যেখানে যুক্তি জেতে, সহিংসতা নয়।
অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে ছাত্র রাজনীতি
ছাত্র রাজনীতি মানে প্রতিশোধ নয়, প্রতিশ্রুতি বদ্ধ ।এই প্রতিশ্রুতি শিক্ষার্থীর অধিকার, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং স্বপ্নের।আজ যখন একনায়কতন্ত্রের ছায়া শিক্ষাঙ্গনে ঘনিয়ে এসেছে, তখন মূল ধারার ছাত্র রাজনীতিই পারে সেই অন্ধকার ভেদ করতে।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে—শিক্ষার্থীর পাশে থেকে, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে।
এক নতুন সূর্যের প্রত্যাশায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রদল
ছাত্র রাজনীতি যদি সঠিক পথে ফিরে আসে, তাহলে আমাদের ক্যাম্পাস হবে আশার জায়গা।সেখানে থাকবে না ভয়, থাকবে যুক্তি; থাকবে আলোচনার সংস্কৃতি, মানবিকতার আবেশ।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চায় সেই নতুন সূর্যের উদয়—যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী গর্ব করে বলতে পারে,আমি শুধু পড়তে আসিনি, ২৪ এর অধিকার রক্ষা করতে এসেছি।