বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নম্বর টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে পছন্দের নারী শিক্ষার্থীকে শিক্ষক নিয়োগ

আবু তাহের, ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ (৫.০০ স্কেলে) এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.৫০ (৪.০০ স্কেলে) থাকতে হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগে মেহেদী উল্লাহকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্ত শিথিলের সুযোগ রেখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০১৫ […]

নম্বর টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে পছন্দের নারী শিক্ষার্থীকে শিক্ষক নিয়োগ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৮

আবু তাহের, ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ (৫.০০ স্কেলে) এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.৫০ (৪.০০ স্কেলে) থাকতে হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগে মেহেদী উল্লাহকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্ত শিথিলের সুযোগ রেখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।

২০১৫ সালের ১২ মে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়— বিশেষ যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীর ফলাফলের যেকোনো একটির আংশিক শিথিল করা যেতে পারে। সাধারণত উচ্চতর ডিগ্রি (পিএইচডি), আন্তর্জাতিকমানের জার্নালে প্রথম লেখক হিসেবে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধকেই বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে দেখানো হয়— ফোকলোর বিষয়ে স্বীকৃত প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত গ্রন্থ, স্বীকৃত জার্নালে একক নামে প্রকাশিত প্রবন্ধ অথবা স্বীকৃত সংস্থা কর্তৃক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্তি।

এই বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে, অনার্সে ৩.৩১ সিজিপিএ পাওয়া মেহেদী উল্লাহ বেহুলা বাংলা নামের বেসরকারি প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত “ফোকলোরের প্রথম পাঠ” নামে একটি গ্রন্থ এবং জেমকন সাহিত্য পুরষ্কার প্রাপ্তিকে তিনি বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে দেখান।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, গ্রন্থটির অধিকাংশ লিখাই বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রকাশিত ‘লোকসংস্কৃতি’ গ্রন্থ থেকে কপি-পেস্ট করা। জেমকন সাহিত্য পুরষ্কারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেমকন গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান আজকের কাগজ ও কাগজ প্রকাশনী ২০০০ সাল থেকে এই পুরস্কারটি প্রদান করে থাকে। 

বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে তিনি যে গ্রন্থ এবং পুরষ্কার প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন দুটির কোনোটিই জাতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের নয় বরং দুটিই  বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। 

অভিযুক্ত এই শিক্ষক  এর আগেও তৎকালীন উপাচার্য মোহিত উল আলমের পিএস খন্দকার এহসান হাবিবের ভাই হওয়ার সুবাদে (পরবর্তীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গরু বলার কারণে বহিষ্কার হন) নিয়োগ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ।

সেবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১জন শিক্ষক নিয়োগের কথা উল্লেখ থাকলেও, তার ভাই খন্দকার এহসান হাবিব প্রভাব খাটিয়ে তার ভাই মেহেদী উল্লাহসহ  এক পদের বিপরীতে দুজনের সুপারিশ করান। কিন্তু পরবর্তীতে সিন্ডিকেটে, মেহেদী উল্লাহর নিয়োগ বাতিল করা হয়। এই নিয়োগ বাতিল হওয়ার পরেই ২০১৫ সালের মার্চ মাসে  অভিযুক্ত এই শিক্ষক ‘ফোকলোরের প্রথম পাঠ’ বইটি প্রকাশ করেন।

নিয়মকে পায়ে মাড়িয়ে শিক্ষক হয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। নিজে শিক্ষক হওয়ার পর পছন্দের শিক্ষার্থীকে শিক্ষক বানাতে নম্বর টেম্পারিংয়ে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুরো ফলাফল ঘেটে দেখা যায়, প্রদিতি রাউত প্রমাকে নিয়োগ দিতে স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৫০ বা এর বেশি পাওয়া শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তরে ৩.৫০ এর কম দেখানো হয়েছে।

প্রমা এবং আরেকজন শিক্ষার্থীকে যথাক্রমে ৩.৫০ ও ৩.৭০ দেওয়া হলেও, দ্বিতীয় জন স্নাতকে ৩.৫০ এর কম পাওয়ায় শর্ত পূরণ করতে পারেননি। ফলে প্রমা ছাড়া অন্য কেউ আবেদনই করতে পারেননি। নিয়োগকালীন সময়ে মেহেদী উল্লাহ ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং উপাচার্য সৌমিত্র শেখরের আস্থাভাজন। প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রমার নিয়োগ বাগিয়ে নেন।

অভিযোগকারীরা জানান, প্রদিতি রাউত প্রমার প্রথম চার সেমিস্টারের ফলাফল ভালো ছিল না। পরে ১ম ও ২য় সেমিস্টারের কয়েকটি কোর্সে বিশেষ সুযোগে (স্পেশাল ইমপ্রুভ) আবার পরীক্ষা দিয়ে নম্বর বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে অষ্টম সেমিস্টারে গিয়ে তিনি কাটায়-কাটায় সিজিপিএ ৩.৫০ উঠান। এছাড়াও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন- কিছু কোর্সে তিনি আগেই প্রশ্ন পেয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিপূর্বে ঘটা অনিয়ম-দুর্নীতি উদঘাটনে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির নিকট লিখিত অভিযোগকারী চাকরি বঞ্চিত প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম জানান, “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অনার্সে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ থাকার কথা থাকলেও নির্বাচিত প্রার্থীর সিজিপিএ ছিল ৩.৩১। তাঁর পুরস্কার কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত নয়, বরং একটি কোম্পানি থেকে পাওয়া।

দেশীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জার্নালে তাঁর কোনো প্রকাশনা নেই, বরং টাকার বিনিময়ে করা প্রকাশনা দেখানো হয়েছে। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে আমাকে চরম বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। আমি অনার্স ও মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েও বঞ্চিত হয়েছি। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সুজন আলী, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং সর্বশেষ সত্যানুসন্ধান কমিটির নিকট লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে শিক্ষার্থীবান্ধব না হয়ে তিনি আন্দোলনে বাধা দেন, গ্রাফিতি অঙ্কনে বাঁধা দেন এবং শিক্ষার্থীদের উপর মারমুখী ভূমিকা নেন। ভিডিও ফুটেজেও এ অভিযোগ প্রমাণ মেলে।

এ ব্যাপারে ড. মেহেদী উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে বলেন- আমি বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ শর্ত পূরণ করেই আবেদন করেছি। নিয়োগ পরিক্ষায় প্রথম হয়ে প্রভাষক স্থায়ী পদে নিয়োগ পাই। আবেদনে বিশেষ যোগ্যতার এমন শর্তের ব্যাপারে প্রশাসন ভালো বলতে পারবে।

তৎকালীন উপাচার্যের পিএস খন্দকার এহসান হাবিব তার ভাই নয় বলেও জানান তিনি। নম্বর টেম্পারিংয় অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেদী উল্লাহ বলেন, ‘স্নাতকোত্তরে দুই সেমিস্টারে পাঁচটি করে মোট দশটি কোর্স ছিলো শিক্ষার্থীদের, সেখানে প্রথম সেমিস্টারে আমার একটি কোর্স ছিলো।

অপরদিকে একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতকে নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ সহ বিভিন্ন ঘটনায় একাধিকবার তৎকালীন প্রক্টর-ছাত্র উপদেষ্টার মীমাংসা করার সত্যতা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, এসব বিষয় নিয়ে একাডেমিক অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। রিপোর্ট পেলেই আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।

এ বিষয়ে জানতে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে মেহেদী উল্লাহর চাকরি স্থায়ীকরণ স্থগিত ও শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।