ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙার ঘটনাকে “বীভৎস মববাজি” হিসেবে অভিহিত করলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সরকার ও বিরোধী দলীয় অবস্থান নিয়ে।
রোববার (৬ জুলাই) রাতে যমুনা টেলিভিশনের জনপ্রিয় রাজনৈতিক টকশো ‘রাজনীতি’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন,
“২৪+২৪= ৪৮ ঘণ্টা ধরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ভাঙা একটি বীভৎস রকমের মববাজি। এটা ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে হিন্দি গান বাজানো হয়েছে। তার পাশাপাশি নাচানাচি করাসহ অনেক কিছুই হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ঠিকানাটি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়ি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতীকের মতো বিবেচিত। এমন একটি স্পর্শকাতর স্থান ঘিরে ভাঙচুর বা নাশকতার অভিযোগ এবং সেই সঙ্গে উদযাপনের মতো আচরণ—এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
রুমিন ফারহানা বলেন,
“৩২ নম্বর (শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি) ভাঙা হলো। এটা নিয়ে কথা বললে অনেকেই আমার পেছনে লাগবেন। লাগলেও কিছু যায় আসে না।”
তিনি আরও বলেন,
“যমুনায় (প্রধান উপদেষ্টার বাসস্থান) মিটিং করা যাবে না; কিন্তু আমরা দেখলাম, সরকারের নিজস্ব দল যেটাকে আমি রাজার দল বলি, তারা ঠিকই সেখানে গিয়ে মিটিং করতে পারল এবং তার পরপরই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণা এলো।”
একই নিয়ম, ভিন্ন প্রয়োগ?
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সরকারের প্রতি দ্বৈত নীতি প্রয়োগের অভিযোগ স্পষ্ট। একদিকে বিরোধী পক্ষকে যমুনার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ঘনিষ্ঠ কোনো গোষ্ঠী সেখানে সভা করলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না—এই দ্বিচারিতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াই নয়—বরং বর্তমান নীতিনির্ধারণী বাস্তবতা এবং ক্ষমতার ব্যবহারের প্রশ্নেও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। বিষয়টি এখন আরও বিতর্ক ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রে চলে এসেছে।