“যারা আগে যে চেয়ারে বসেছিল, তারা এখনো সেই চেয়ারে বসে আছে। শুধু হাসিনার চেয়ারটাই খালি। বাকি সব আগের মতোই ভারতীয় প্রক্সিরা বসে আছে”—মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে এ মন্তব্য করেছেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজি।
জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর জুলাই রিভাইভস’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি বলেন, “নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ এবং ভার্চুয়ালি নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশি গণমাধ্যমগুলো ওবায়দুল কাদেরের ভিডিওবার্তা নেতাকর্মীদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি—যেসব ৩২ জন সাংবাদিকের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে, সেই মামলাগুলোর অগ্রগতি কোথায়?”
তিনি আরও বলেন, “যেসব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ে মামলা হয়েছে, সেগুলোরও অগ্রগতি নেই। যদি তারা নির্দোষ হয়, তবে তাদের ক্লিয়ারেন্স দিন। আর যদি অপরাধী হয়, তাদের আইনের আওতায় আনুন।”
ইসরাফিল ফরাজি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ৪৪ জন সচিবের তালিকা দিয়েছিলাম, যাদের সরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। সরকার এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচজনকে সরিয়েছে। বাকি ৩৯ জন এখনও স্বপদে বহাল। সচিবালয়ে বিশৃঙ্খলা, এনবিআরে বিশৃঙ্খলা, এনটিআরসিএতে বিশৃঙ্খলা—সবখানে বিশৃঙ্খলা চলছে।”
তিনি বলেন, “যেসব ডিসি-এসপির নির্দেশে ৩৬ দিনব্যাপী ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালানো হয়েছে, তাদের শুধু জেলা বদলি করা হয়েছে, বরখাস্ত করা হয়নি। তারা নতুন জেলাতেও একই অপকর্ম করছে।”
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনারা সংস্কার করুন, না হলে অপসারণ করুন। অথবা নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা ছাড়ুন। ছাত্রজনতা এখনো আপনাদের সঙ্গে আছে। তবে তাদের মনের কথা না শুনলে ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।”
জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনাদের ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট একদফা ঘোষণাপত্র দেওয়ার কথা ছিল। তা না দিয়ে পরিস্থিতি এমন করেছেন যে আমাদের আবার রাস্তায় নামতে হচ্ছে। এখন ঘোষণাপত্র দিতে হবে সরকারকে। সরকার ব্যর্থ হলে ছাত্রজনতা আবার দাবি আদায় করে নেবে।”