কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে পুঁজি করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ফের যুদ্ধের উন্মাদনা উসকে দিলেন। সোমবার (১২ মে) রাত ৮টায় দেওয়া ভাষণে মোদি সরাসরি পারমাণবিক হুমকি দিয়ে বলেন,
“ভারত কোনো পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল সহ্য করবে না।” যুদ্ধবিরতির একদিন পর এমন ভাষণ শুধু উসকানিমূলকই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলার চরম সংকেত।
ভাষণের শুরুতেই মোদি বাহবা দেন পেহেলগামে অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের। এরপরই
“অপারেশন সিঁদুর” নামে সাম্প্রদায়িক আবেগে ভরপুর এক সামরিক অভিযানের কথায় মাত করেন। বলেন, “সন্ত্রাসীদের এখন বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে নারীর সিঁদুর মুছলে তার চড়া মূল্য দিতে হয়।”
জাতির পক্ষে ভাষণ না দিয়ে বরং পুরো বক্তব্যটাই ছিল একটি জঙ্গিপূর্ণ, ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দেওয়া কৌশল।
মোদি দাবি করেন, মাত্র তিনদিনে পাকিস্তানকে “অকল্পনীয় ক্ষতির” মুখে ফেলেছে ভারতীয় বাহিনী। তিনি বলেন—
🔺 ভারত পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে
🔺 শতাধিক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে
🔺 পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে
🔺 পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তারা সন্ত্রাসীদের জানাজায় অংশ নিচ্ছে
🔺 পাকিস্তান এখন যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে
এতসব দাবি তুলেও মোদি নিজেই স্বীকার করেন—
“আমরা সামরিক অভিযান বন্ধ করিনি, কেবল স্থগিত করেছি।” অর্থাৎ, শান্তির কোনো পথ নয়, মোদি সরকার খুঁজছে আরও আগ্রাসনের পথ।
তিনি আরও বলেন,
“শান্তির পথ আসে শক্তির মধ্য দিয়ে।” প্রশ্ন হচ্ছে—একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের এই ধরনের যুদ্ধবাদী উক্তি কীভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে নিরাপদ রাখে?
ভাষণের শেষাংশে মোদি সরাসরি বলেন—
➡️ সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না
➡️ পানি ও রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না
➡️ পাকিস্তানকে সন্ত্রাস নির্মূল করতেই হবে
➡️ ভারতের আলোচনার শর্ত শুধু “সন্ত্রাস” ও “পাক-অধিকৃত কাশ্মির”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল ভাষণ নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় ঘোষণাপত্র—যেখানে শান্তির নয়, বরং যুদ্ধ, প্রতিশোধ ও সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার প্রতিধ্বনি। মোদি সরকার এই ভাষণের মাধ্যমে শুধু পাকিস্তান নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়াকে পরমাণু দোলাচলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?