আব্দুল্লাহ আল মামুন ,টাঙ্গাইলঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে দায়িত্বে থাকা বিটিসিএল (টিএন্ডটি) লাইনম্যান শামীমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, তিনি সরকারি অফিসকে বাসা হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। একইসঙ্গে তার নামে বরাদ্দকৃত টিএন্ডটি অফিসের ফ্ল্যাটের বিপরীতে প্রতি মাসে ৬ হাজার ৯৮০ টাকা হারে মোট ১৪ লাখ ২৩ হাজার ৯২০ টাকা ভাড়া আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তার কর্মস্থলে গেলে শামীম অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ডিজিএম স্যার আমাকে এখানে থাকার অনুমতি দিয়েছেন।” তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুমতির কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীমের বাড়ি বগুড়া জেলায়। তিনি ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ১৭ বছর ধরে বাসাইলে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিনা অনুমতিতে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি, অফিস প্রাঙ্গণের জমিতে শাকসবজি চাষ এবং পুকুরে মাছ চাষ করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ‘ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ টাঙ্গাইল জেলা শাখার চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বিটিসিএলের ডিজিএম মাহবুব হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, বিটিসিএলের মহাপরিচালক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিটিসিএল-এর টাঙ্গাইল অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজিএম মাহবুব হাসান জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবে। এরপর তা ঢাকায় পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, পরিবার-পরিজন নিয়ে অফিসে থাকার কোনো অনুমতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে নিষেধ করা হয়েছে। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।