রাশিমুল হক , বরগুনা
বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান প্রকৌশলী বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৩ জুন বরগুনা এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকে মো. মেহেদী হাসান খান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সাবেক বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস পরিচয় দেওয়া ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে প্রধান প্রকৌশলী বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, আমতলী ও তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৩৬ কোটি টাকার দরপত্রে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও প্রভাব খাটিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু প্রকল্পে কাজের মান দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মসজিদ সংস্কার ও খাল খনন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। কে বা কারা অভিযোগ দিয়েছে তা তারাই বলতে পারবে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি সভায় ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রকল্প বাস্তবায়নের মান নিয়ে অসন্তোষের কথা বললেও অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্ত শুরু হওয়ায় এখন বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।