সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মহিপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনীতি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন থানা ছাত্র শিবিরের প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম। শনিবার (২৫ এপ্রিল) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে থানা ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ের পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির আলোকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সেবা এবং নৈতিক কাজের ক্ষেত্র কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে স্বাধীন অবস্থান থেকে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয় বরং দীর্ঘদিনের চিন্তাভাবনা এবং আত্মবিশ্লেষণের ফল।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ইব্রাহিম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ারও কোনো পরিকল্পনা নেই। এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও জানান, সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকলেও দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ইতিবাচক চিন্তা ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।
অন্যদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মহিপুর থানা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ-আল জুবায়ের বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে হলে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি ইব্রাহিম ভাই পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে সংগঠনে সময় দিতে পারছিলেন না। আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়।
তিনি আরও বলেন, তার পদত্যাগে সংগঠনের কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। শূন্য পদে পরবর্তীতে যোগ্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
ইব্রাহিমের এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর পেছনে ভিন্ন কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তবে সব মিলিয়ে বিষয়টি মহিপুরের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।