বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর নির্বাচনি আসনগুলোতে কোনো প্রার্থী দেবে না গণঅধিকার পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় দফা প্রার্থী ঘোষণা অনুষ্ঠানে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার প্রতি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে দিনাজপুর-৩ আসনসহ তিনি যেসব আসন থেকে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করেছেন, সেসব আসনেই গণঅধিকার পরিষদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিন রাশেদ খান আরও জানান, দ্বিতীয় দফায় ১৫০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করছে গণঅধিকার পরিষদ। এর মাধ্যমে মোট ২০০ আসনে প্রার্থী দিল দলটি। তিনি বলেন, সামনে আরও ১০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে পুরো ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে গণঅধিকার পরিষদ। দলীয় নেতাকর্মীদের সব এলাকায় মাঠে নেমে জনসংযোগ জোরদার করার নির্দেশও দেন তিনি।
নির্বাচনি জোট প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের প্রাথমিক আলোচনা চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো জোটই চূড়ান্ত হয়নি। জোট হলে আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থী ভাগাভাগি করা হবে বলে জানান তিনি।
একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন—অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা ছাড়া কোনো নির্বাচনে অর্থবহ অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায়িত্ব বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহত্তর বিরোধী রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণা নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছে বিশ্লেষকদের একাংশ। খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক সৌজন্য রক্ষার এই অবস্থানকে অনেকেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।